ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

কাউ-টাউন: যে শহরের মানুষ একদিন ‘গরু’ হয়েছিল

পর্যটন ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট রিভার অঞ্চলের মার্গারেট ও কাউরামাপ নামক শান্ত ও সবুজ জনপদটি বর্তমানে পর্যটকদের কাছে ‘কাউ-টাউন’ বা গরুর শহর হিসেবে পরিচিত। এই শহরের প্রধান সড়কে পা রাখলেই ফুটপাত, দোকান কিংবা পার্কের বেঞ্চের পাশে দুধেল গাভীর নানা রঙের বাস্তবসম্মত মূর্তি দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। অনেকেই একে সাময়িক প্রচারণা বলে মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে এক শতাব্দী প্রাচীন কৃষি ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির শেকড়। আধুনিক ইউরোপীয় বসতি স্থাপনের আগে এই অঞ্চলটি আদিবাসী নোঙ্গার সম্প্রদায়ের বাসভূমি ছিল এবং স্থানীয় ভাষায় এর অর্থ ছিল বেগুনি টিয়াদের অবাধ বাসস্থানের জায়গা।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ রাজপরিবার ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া ‘গ্রুপ সেটেলমেন্ট স্কিম’-এর মাধ্যমে এই অঞ্চলে বসতি গড়ে ওঠে। যুদ্ধফেরত সেনা ও অভিবাসীরা ঘন বনাঞ্চল কেটে উর্বর কৃষিজমি ও চারণভূমি তৈরি করে ডেইরি শিল্প গড়ে তোলেন। সময়ের পরিক্রমায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া ও বড় কর্পোরেশনের প্রভাবে ছোট পারিবারিক খামারগুলো সংকটে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের কৃষিজীবী পরিচয় ধরে রাখার উদ্যোগ নেন। ২০১২ সালে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতা সমিতির উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন স্থানে ৪২টি ফাইবারগ্লাসের গাভীর মূর্তি স্থাপন করা হয়। প্রতিটি মূর্তির পেছনে ডেইরি পরিবারগুলোর অবদান যুক্ত থাকায় এটি রাতারাতি মানুষের নজর কাড়ে এবং শহরের নাম হয়ে ওঠে কাউ-টাউন।

এই ব্র্যান্ডিংয়ের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় ব্যবসায়ী জেনিন ডার্নেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি রেকর্ড ভাঙার পরিকল্পনা করেন। ২০১৪ সালের ১২ জুলাই কাউরামাপের বার্ষিক উৎসবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ভাঙার এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন হয়। গিনেস কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ম মেনে সাদা-কালো ছোপ ছোপ ওয়ানজি পোশাক, হুড ও গরুর কানযুক্ত পোশাকে সজ্জিত হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পার্থ ও বানবারিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিশু, বৃদ্ধ এমনকি পোষা কুকুরের গায়েও জড়ানো হয়েছিল পশমি গরুর পোশাক।

নির্ধারিত সীমানার পেছনে সারিবদ্ধভাবে গণনা করে সেদিন আমেরিকানদের ৪৭০ জনের পুরোনো রেকর্ড পেছনে ফেলে ১ হাজার ৩৫২ জন মানুষ অংশ নেন। এই অনন্য রেকর্ডের সুবাদে কাউরামাপের পর্যটন শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এবং দর্শনার্থীরা ওয়াইন বা সাগরের পাশাপাশি এই শহরেও ভিড় করেন। রাস্তার পাশের ক্যাফে, বেকারি ও ডেইরি শপগুলোতে এখন সারা বছরই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে।

জনপ্রিয়

সিকদার গ্রুপের ‘পাচার অর্থ’ উদ্ধারে ‘আগাম টাকা চায়’ রিকভারি এজেন্ট

কাউ-টাউন: যে শহরের মানুষ একদিন ‘গরু’ হয়েছিল

প্রকাশিত ০২:০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পর্যটন ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট রিভার অঞ্চলের মার্গারেট ও কাউরামাপ নামক শান্ত ও সবুজ জনপদটি বর্তমানে পর্যটকদের কাছে ‘কাউ-টাউন’ বা গরুর শহর হিসেবে পরিচিত। এই শহরের প্রধান সড়কে পা রাখলেই ফুটপাত, দোকান কিংবা পার্কের বেঞ্চের পাশে দুধেল গাভীর নানা রঙের বাস্তবসম্মত মূর্তি দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। অনেকেই একে সাময়িক প্রচারণা বলে মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে এক শতাব্দী প্রাচীন কৃষি ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির শেকড়। আধুনিক ইউরোপীয় বসতি স্থাপনের আগে এই অঞ্চলটি আদিবাসী নোঙ্গার সম্প্রদায়ের বাসভূমি ছিল এবং স্থানীয় ভাষায় এর অর্থ ছিল বেগুনি টিয়াদের অবাধ বাসস্থানের জায়গা।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ রাজপরিবার ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া ‘গ্রুপ সেটেলমেন্ট স্কিম’-এর মাধ্যমে এই অঞ্চলে বসতি গড়ে ওঠে। যুদ্ধফেরত সেনা ও অভিবাসীরা ঘন বনাঞ্চল কেটে উর্বর কৃষিজমি ও চারণভূমি তৈরি করে ডেইরি শিল্প গড়ে তোলেন। সময়ের পরিক্রমায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া ও বড় কর্পোরেশনের প্রভাবে ছোট পারিবারিক খামারগুলো সংকটে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের কৃষিজীবী পরিচয় ধরে রাখার উদ্যোগ নেন। ২০১২ সালে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতা সমিতির উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন স্থানে ৪২টি ফাইবারগ্লাসের গাভীর মূর্তি স্থাপন করা হয়। প্রতিটি মূর্তির পেছনে ডেইরি পরিবারগুলোর অবদান যুক্ত থাকায় এটি রাতারাতি মানুষের নজর কাড়ে এবং শহরের নাম হয়ে ওঠে কাউ-টাউন।

এই ব্র্যান্ডিংয়ের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় ব্যবসায়ী জেনিন ডার্নেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি রেকর্ড ভাঙার পরিকল্পনা করেন। ২০১৪ সালের ১২ জুলাই কাউরামাপের বার্ষিক উৎসবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ভাঙার এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন হয়। গিনেস কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ম মেনে সাদা-কালো ছোপ ছোপ ওয়ানজি পোশাক, হুড ও গরুর কানযুক্ত পোশাকে সজ্জিত হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পার্থ ও বানবারিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিশু, বৃদ্ধ এমনকি পোষা কুকুরের গায়েও জড়ানো হয়েছিল পশমি গরুর পোশাক।

নির্ধারিত সীমানার পেছনে সারিবদ্ধভাবে গণনা করে সেদিন আমেরিকানদের ৪৭০ জনের পুরোনো রেকর্ড পেছনে ফেলে ১ হাজার ৩৫২ জন মানুষ অংশ নেন। এই অনন্য রেকর্ডের সুবাদে কাউরামাপের পর্যটন শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এবং দর্শনার্থীরা ওয়াইন বা সাগরের পাশাপাশি এই শহরেও ভিড় করেন। রাস্তার পাশের ক্যাফে, বেকারি ও ডেইরি শপগুলোতে এখন সারা বছরই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে।