ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo পর্তুগালের বিপক্ষে হেরে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ড্র বাংলাদেশের Logo বাজারে কোন কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে? Logo চলে গেলেন বাংলার বিশ্বমানের চিত্রকর যোগেন চৌধুরী Logo কম্পানিকে ছাড়া প্রথম ম্যাচ জিতে শীর্ষে ফিরল বায়ার্ন Logo সিকদার গ্রুপের ‘পাচার অর্থ’ উদ্ধারে ‘আগাম টাকা চায়’ রিকভারি এজেন্ট Logo সোনার দাম বাড়ে-কমে কেন, কীভাবে হয় দাম নির্ধারণ Logo চাঁদাবাজির অভিযোগে রায়েরবাজার থেকে বিএনপি নেতা রাজেশ গ্রেপ্তার Logo কাউ-টাউন: যে শহরের মানুষ একদিন ‘গরু’ হয়েছিল Logo এমআরডিআইয়ের আলোচনা: গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় ‘কাঠামোগত সংস্কার’ জরুরি Logo টয়োপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন জহিরুল ইসলাম

সিকদার গ্রুপের ‘পাচার অর্থ’ উদ্ধারে ‘আগাম টাকা চায়’ রিকভারি এজেন্ট

অর্থনীতি ডেস্ক: আলোচিত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী সিকদার গ্রুপের বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে ১১টি ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অর্থ উদ্ধারের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক রিকভারি এজেন্ট ‘আরওয়ান কনসোর্টিয়াম’ এর আগাম অর্থ চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া অর্থ উদ্ধারের আনুপাতিক খরচ বহন এবং ভবিষ্যতে উদ্ধারকৃত অর্থ কীভাবে বণ্টন হবে, সে বিষয়েও ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই বিষয়ে দ্রুত মতামত জানাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী সিকদার গ্রুপের মালিকরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। এর মধ্যে কেম্যান আইল্যান্ড, থাইল্যান্ড, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্র—এই চার দেশে ৫০ কোটি ডলার শনাক্ত করেছে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউ। এককভাবে সিকদার গ্রুপ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আট হাজার কোটি টাকা এবং আইএফআইসি ব্যাংক থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে ৩০ কোটি ডলার বের করে নিয়েছে। এই অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান আরওয়ান কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে একটি রোডম্যাপ দিয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, রিকভারি এজেন্ট চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাঁচ বছরের মধ্যে ৫০ কোটি ডলার উদ্ধার করে দিতে পারবে বলে জানিয়েছে। তবে এই সেবা দেওয়ার জন্য তারা সাড়ে ১২ কোটি ডলার কমিশন এবং কিছু আগাম অর্থ দাবি করেছে। রোডম্যাপের অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ব্যাংকগুলো একমত হলেও একসঙ্গে পুরো কমিশন বা আগাম অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। অগ্রণী ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, অর্থ সফলভাবে উদ্ধারের পরই কেবল কমিশন পরিশোধ করা উচিত, অন্যথায় আগে থেকে কোনো অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়।

এর আগে সিকদার পরিবারের সদস্যদের থাইল্যান্ডে থাকা সম্পদের তথ্য আদালতে উপস্থাপন করেছিল বিএফআইইউ ও দুর্নীতি দমন কমিশন। আদালত ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের সন্তানদের নামে থাকা থাইল্যান্ডের সাতটি কোম্পানির প্রায় ১৩৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ অবরুদ্ধ করার আদেশ দেয়। ২০০৯ সালের পর থেকে ব্যাংক, বিমা, বিদ্যুৎ ও আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে বড় বিনিয়োগ গড়ে তোলা এই গ্রুপের বিরুদ্ধে চলমান আইনি ও আর্থিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই অর্থ পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই রিকভারি এজেন্টের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যাংকগুলোকে তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জনপ্রিয়

পর্তুগালের বিপক্ষে হেরে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ড্র বাংলাদেশের

সিকদার গ্রুপের ‘পাচার অর্থ’ উদ্ধারে ‘আগাম টাকা চায়’ রিকভারি এজেন্ট

প্রকাশিত ০২:৫২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: আলোচিত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী সিকদার গ্রুপের বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে ১১টি ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অর্থ উদ্ধারের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক রিকভারি এজেন্ট ‘আরওয়ান কনসোর্টিয়াম’ এর আগাম অর্থ চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া অর্থ উদ্ধারের আনুপাতিক খরচ বহন এবং ভবিষ্যতে উদ্ধারকৃত অর্থ কীভাবে বণ্টন হবে, সে বিষয়েও ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই বিষয়ে দ্রুত মতামত জানাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী সিকদার গ্রুপের মালিকরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। এর মধ্যে কেম্যান আইল্যান্ড, থাইল্যান্ড, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্র—এই চার দেশে ৫০ কোটি ডলার শনাক্ত করেছে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউ। এককভাবে সিকদার গ্রুপ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আট হাজার কোটি টাকা এবং আইএফআইসি ব্যাংক থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে ৩০ কোটি ডলার বের করে নিয়েছে। এই অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান আরওয়ান কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে একটি রোডম্যাপ দিয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, রিকভারি এজেন্ট চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাঁচ বছরের মধ্যে ৫০ কোটি ডলার উদ্ধার করে দিতে পারবে বলে জানিয়েছে। তবে এই সেবা দেওয়ার জন্য তারা সাড়ে ১২ কোটি ডলার কমিশন এবং কিছু আগাম অর্থ দাবি করেছে। রোডম্যাপের অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ব্যাংকগুলো একমত হলেও একসঙ্গে পুরো কমিশন বা আগাম অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। অগ্রণী ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, অর্থ সফলভাবে উদ্ধারের পরই কেবল কমিশন পরিশোধ করা উচিত, অন্যথায় আগে থেকে কোনো অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়।

এর আগে সিকদার পরিবারের সদস্যদের থাইল্যান্ডে থাকা সম্পদের তথ্য আদালতে উপস্থাপন করেছিল বিএফআইইউ ও দুর্নীতি দমন কমিশন। আদালত ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের সন্তানদের নামে থাকা থাইল্যান্ডের সাতটি কোম্পানির প্রায় ১৩৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ অবরুদ্ধ করার আদেশ দেয়। ২০০৯ সালের পর থেকে ব্যাংক, বিমা, বিদ্যুৎ ও আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে বড় বিনিয়োগ গড়ে তোলা এই গ্রুপের বিরুদ্ধে চলমান আইনি ও আর্থিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই অর্থ পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই রিকভারি এজেন্টের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যাংকগুলোকে তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।