বিনোদন ডেস্ক: পদ্মভূষণপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী ছিয়াশি বছর বয়সে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত পনেরো মাস ধরে ব্লাড ক্যানসারে ভোগার পাশাপাশি সম্প্রতি মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই শিল্পী। ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে দশটায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে এবং তাঁর এই প্রয়াণে ভারত ও বাংলাদেশের চারুশিল্প অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
১৯৩৯ সালে অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের কোটালিপাড়ায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী দেশভাগের আগে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন। তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট থেকে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতা ও ডিজাইনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ফরাসি সরকারের বৃত্তিতে প্যারিসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বিশ্বভারতীর কলাভবনে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি শান্তিনিকেতনে দীর্ঘকাল বসবাস ও শিল্পচর্চা করেছেন।
মধ্যবিত্ত সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক চিত্রকর্ম এঁকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাঁর আঁকা রেখা, অবয়ব ও রঙের ব্যবহার শিল্পজগতে এক অনন্য নিজস্ব ঘরানা তৈরি করেছিল যা প্রাচ্যের শিল্পভুবনকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের শিল্পশিক্ষার্থী ও তরুণদের সবসময় তিনি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এবং জন্মভূমির প্রতি তাঁর আজীবন গভীর টান ছিল।
তাঁর শিল্পকর্মে মানবদেহ, কাপড় ও বালিশের সংমিশ্রণে এক রহস্যময় ও সংবেদনশীল জগতের রূপায়ণ ঘটেছে যা দর্শকদের গভীর ভাবনায় ফেলে। চারুশিল্পে তাঁর এই বর্ণাঢ্য অবদান এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতি তাঁকে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিত্রশিল্পীতে পরিণত করেছে। তাঁর মহাপ্রয়াণ প্রাচ্যের শিল্পভুবনের জন্য এক অপূরণীয় ও বিরাট ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





































