ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বায়তুল মোকাররম থেকে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৪ জন রিমান্ডে

আইন-আদালত ডেস্ক: রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের চৌদ্দ জন নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান প্রদান, মিছিলের পরিকল্পনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রোকনুজ্জামান এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ২৪ অক্টোবর পুরানা পল্টনের বায়তুল মোকাররম সংলগ্ন এলাকায় একশ থেকে একশ কুড়ি জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে প্রকাশ, গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় পল্টন থানার পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সম্মিলিত সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা সরদার এবং সাঁচল্লিশ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রাজীবসহ মোট উনিশ জনকে প্রথমে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের আদালতে হাজির করা হলে চার শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে এবং পনেরো জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মিরাজুল ইসলাম পনেরো আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

নির্ধারিত শুনানির দিনে অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে চোদ্দ জনকে আদালতে হাজির করা হলেও মো. আপন নামের একজন অনুপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহরুক মিরাজ, ওবায়দুল ইসলাম এবং আবুল কালাম আজাদ রাসেলের পক্ষ থেকে রিমান্ড আবেদন বাতিল করে আসামিদের জামিনের প্রার্থনা করা হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এই জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক চৌদ্দ আসামির প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া অনুপস্থিত থাকা আসামির বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে বলে প্রসিকিউশন বিভাগ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা এই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে যে অভিযুক্তরা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত দল ও এর সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বায়তুল মোকাররমের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে। এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

প্রতিবন্ধীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিতে নতুন প্ল্যাটফর্ম

বায়তুল মোকাররম থেকে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৪ জন রিমান্ডে

প্রকাশিত ০৫:৫২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আইন-আদালত ডেস্ক: রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের চৌদ্দ জন নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান প্রদান, মিছিলের পরিকল্পনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রোকনুজ্জামান এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ২৪ অক্টোবর পুরানা পল্টনের বায়তুল মোকাররম সংলগ্ন এলাকায় একশ থেকে একশ কুড়ি জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে প্রকাশ, গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় পল্টন থানার পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সম্মিলিত সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা সরদার এবং সাঁচল্লিশ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রাজীবসহ মোট উনিশ জনকে প্রথমে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের আদালতে হাজির করা হলে চার শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে এবং পনেরো জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মিরাজুল ইসলাম পনেরো আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

নির্ধারিত শুনানির দিনে অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে চোদ্দ জনকে আদালতে হাজির করা হলেও মো. আপন নামের একজন অনুপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহরুক মিরাজ, ওবায়দুল ইসলাম এবং আবুল কালাম আজাদ রাসেলের পক্ষ থেকে রিমান্ড আবেদন বাতিল করে আসামিদের জামিনের প্রার্থনা করা হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এই জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক চৌদ্দ আসামির প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া অনুপস্থিত থাকা আসামির বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে বলে প্রসিকিউশন বিভাগ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা এই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে যে অভিযুক্তরা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত দল ও এর সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বায়তুল মোকাররমের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে। এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।