আইন-আদালত ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আট জন শীর্ষ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান যে তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং বর্তমানে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুতের কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা সম্ভব হবে বলে প্রসিকিউশন পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।
অভিযুক্ত আট নেতার তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান ও শাজাহান খান। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজমকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। প্রধান কৌঁসুলি জানান যে এসব আসামির বিরুদ্ধে মূলত ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় বা সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, কারফিউ জারি করা এবং কারফিউর আড়ালে গণহত্যা চালানোর পরিকল্পনা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এদিকে মিরপুরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি পৃথক মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগও এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী মোল্লাসহ আরও কয়েকজন অভিযুক্তকে এই মামলায় রাখা হয়েছে এবং এটিও চলতি সপ্তাহেই ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে। এই দুই মামলার পাশাপাশি আরও প্রায় তিনটি ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে এসব প্রতিবেদনগুলো সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনগুলো যাচাই শেষে আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে সেগুলোতেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের জোরালো প্রচেষ্টা চলছে। তবে সম্প্রতি জমা পড়া নতুন তদন্ত প্রতিবেদনগুলো কোন সুনির্দিষ্ট এলাকার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাননি প্রধান কৌঁসুলি। জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে রাষ্ট্রপক্ষের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।




































