জাতীয় ডেস্ক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। সফলভাবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এবার ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এই অনুমোদনের ফলে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী মাসেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় জমা দেওয়ার পরই স্টেজ-সি পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার ট্রায়াল অপারেশনাল অনুমোদন পাওয়া গেছে। এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, কুল্যান্ট ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ধারাবাহিকভাবে যাচাই করা হবে। সুনির্দিষ্ট এই ধাপের মূল লক্ষ্য হলো কেন্দ্রটির নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা শতভাগ যাচাই করা।
নিউक्लিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাসান জানান যে বায়েরার চেয়ারম্যান এই পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রমের অনুমতি দিয়েছেন। রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের কার্যকারিতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। স্টেজ-সি পর্যায়ের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হলো গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা। রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ক্ষমতা নির্দিষ্ট মাত্রায় উন্নীত হলে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পাওয়ার স্টার্টআপের অনুমোদন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে তাৎক্ষণিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে। বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব শর্ত পূরণ এবং বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।


































