প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই হামলায় হ্যাকাররা প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে, যা ক্রিপ্টো ইতিহাসের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় চুরির রেকর্ড। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় সময় অনুযায়ী হামলার শুরু হয় এবং মাত্র কুড়ি মিনিটের ব্যবধানে তহবিলের একটি বিশাল অংশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ব্লকচেইন লেনদেন ও এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের নিয়মিত লেনদেন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ওয়ালেটগুলো থেকেই এই অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘টিআরএম ল্যাবস’ জানিয়েছে, লেনদেন অনুমোদনের জন্য ব্যবহৃত বাইন্যান্সের ডিজিটাল স্বাক্ষর অবকাঠামো বা ‘সাইনিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিল আক্রমণকারীরা। হংকংয়ের ক্রিপ্টো আইনজীবী জোশুয়া চুর মতে, হ্যাকাররা সরাসরি ভল্টের চাবি চুরি না করে বরং ভল্ট থেকে অর্থ ছাড়ার মূল সিস্টেমটিকেই নিজেদের কব্জায় নিয়েছিল। এদিকে বাইন্যান্স প্রথমে একটি হ্যাক হওয়া ল্যাপটপকে দায়ী করলেও পরবর্তীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কিছু ত্রুটির কথা স্বীকার করেছে। তবে কোম্পানিটির কো-সিইও রিচার্ড টেং নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রাহকদের সুরক্ষায় থাকা সংরক্ষিত তহবিল ও কোম্পানির নিজস্ব সম্পদ থেকেই এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে।
চুরি যাওয়া ডিজিটাল সম্পদের প্রায় অর্ধেক ছিল বিভিন্ন স্টেবলকয়েন, যা টিথার ও সার্কলের মতো ইস্যুকারী কোম্পানিগুলো দূর থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে ফ্রিজ করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে হ্যাকারদের পক্ষে ওই অংশটি নগদে রূপান্তর করার সুযোগ সীমিত হলেও, প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের বিটকয়েন ও ইথারের মতো সম্পদ তাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মার্কিন ব্লকচেইন কোম্পানিগুলো এই ঘটনার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের পূর্ববর্তী হামলার কৌশলগত মিল খুঁজে পেলেও, বাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তাদের তদন্তে এখনো নির্দিষ্ট কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। উত্তর কোরিয়া বরাবরই সাইবার হামলা ও ক্রিপ্টো চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চুরি যাওয়া অর্থ পাচার করা হ্যাকারদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে কারণ সংশ্লিষ্ট ওয়ালেটগুলোকে ইতোমধ্যে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই আকস্মিক ও বিশাল অংকের চুরির ঘটনা পুরো ক্রিপ্টো বাজারের বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার পরপরই প্রধান প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সি ও স্টেবলকয়েনের বাজারদর কমে গেছে, যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে বিনিয়োগকারীরা ডিজিটাল সম্পদ থেকে দ্রুত নিজেদের পুঁজি তুলে নিচ্ছেন। ডিজিটাল দুনিয়ায় ক্রমবর্ধমান এমন সাইবার হামলা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।



































