প্রযুক্তি ডেস্ক: কম্পিউটার হ্যাং হয়ে গেলে বা তাড়াহুড়োয় পাওয়ার বাটন চেপে ধরে পিসি জোর করে বন্ধ করার অভ্যাস ফাইল নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে অপারেটিং সিস্টেমের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। মাঝেমধ্যে ম্যানুয়ালি পিসি শাট ডাউন বা রিস্টার্ট করা উপকারী হলেও তা কেবল সঠিক নিয়মে করলেই কার্যকর হয়। প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদ সাইট এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, কম্পিউটার শাট ডাউনের জন্য প্রস্তুত না থাকলে তা স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এই ধরনের অভ্যাস এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি একটি কার্যকর পদ্ধতি।
হুট করে পিসির পাওয়ার কেটে দেওয়ার মূল সমস্যা হলো মেশিনটি বন্ধ হওয়ার আগে নিয়মিত শাট ডাউন সুরক্ষামূলক কাজগুলো করার সুযোগ পায় না। কম্পিউটারের প্রোগ্রাম ও অপারেটিং সিস্টেম ব্যাকগ্রাউন্ডে ফাইল ইনডেক্স, আপডেট চেক, ক্লাউডের সঙ্গে সিংক এবং অটো-সেইভ করার মতো কাজ সবসময় করতে থাকে। কম্পিউটার নিজের মতো করে এসব প্রক্রিয়া বন্ধ করার পরিবর্তে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে ফাইল করাপ্ট হওয়া ও ডেটা হারিয়ে যাওয়ার মতো বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কম্পিউটারে কোনো আপডেট চলাকালীন পাওয়ার কেটে দিলে পুরনো ফাইল মুছে নতুন ফাইল বসানোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
আপডেট চলাকালীন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং এমনটা ঘটলে কম্পিউটার হয়তো আর চালুই হতে পারবে না। এর ফলে ব্যবহারকারীকে ট্রাবলশুটিংয়ের এক অন্তহীন জটিলতার মধ্যে পড়তে হতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ পাওয়ার বাটন চেপে ধরে রাখা সমস্যার কারণ হলেও এর উপযোগিতা অনেক। ব্যবহারকারীরা উইন্ডোজ ১১-এর সেটিংসে গিয়ে এই বাটনে ট্যাপ করলে কী হবে তা আগে থেকেই নির্ধারণ করে নিতে পারেন।
ব্যবহারকারী চাইলে সেটিংস পরিবর্তন করে পাওয়ার বাটন প্রেস করলে পিসি শাট ডাউন, স্লিপ মোডে যাওয়া, হাইবারনেট করা বা ডিসপ্লে অফ করার মতো অপশন বেছে নিতে পারেন। উইন্ডোজ ও আই একসঙ্গে প্রেস করে সেটিংস ওপেন করার পর সিস্টেম থেকে পাওয়ার অ্যান্ড ব্যাটারি অপশনে গিয়ে এই কাস্টমাইজেশন করা সম্ভব। ডেস্কটপ পিসির ক্ষেত্রে পাওয়ার বাটন কন্ট্রোলস বেছে নিয়ে ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে নিজের কাঙ্ক্ষিত অপশনটি বেছে নেওয়া যায়। এই নিয়মগুলো মেনে চললে কম্পিউটারকে স্থায়ী ক্ষতি ও ডেটা হারানোর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা যায়।





































