জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রতিবছরের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘১৬ তম প্রজাপতি মেলা-২০২৬’। আগামী ২৭ নভেম্বর দিনব্যাপী আয়োজিত হতে যাচ্ছে এই মেলা। এ উপলক্ষে জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষ ও করিডোর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ১৬তম প্রজাপতি মেলা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, “এবার আমাদের প্রজাপতি মেলা ২৭ নভেম্বর ১৬তম বারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছি।
এবারের মেলায় চমক হিসেবে একটি সচিত্র তথ্যবহুল বই প্রকাশ করা হবে জানিয়ে অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, “বইটিতে প্রজাপতিনির্ভর গাছপালা, প্রজাপতির ক্যাটারপিলার বা লার্ভার ছবি, মানুষ কিভাবে প্রজাপতি চিনতে পারবে এবং সংরক্ষণ করতে পারবে এধরণের তথ্য দেওয়া থাকবে। তিনি’লার্ভাল হোস্ট প্ল্যান্টস অব বাংলাদেশ’ নামে বইটির নামকরণ করেছেন।
প্রজাপতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, একসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর প্রজাপতি পাওয়া যেত প্রায় ১১০-১২০ প্রকারের প্রজাতি, বর্তমানে তা ৭০ এ কমে এসেছে। গত ১০-১২ বছরে এই ৪০ প্রজাতির প্রজাপতি কমার অনেকগুলো কারণ রয়েছে তারমধ্যে অন্যতম কারণগুলো হলো, যে গাছগুলোতে প্রজাপতি ডিম পারত তা অনেকটা ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। আমাদের ফুলের বাগান কমে গেছে। অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং নগরায়নও জাবিতে প্রজাপতি কমার অন্যতম কারণ।
অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা চেষ্টা করছি প্রজাপতি মেলার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে প্রজাপতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। প্রজাপতির ভূমিকা, প্রজাপতি কোন গাছে ডিম পাড়ে এই বিষয়গুলো প্রজাপতি মেলার মাধ্যমে তুলে ধরে আমরা চাই যে মানুষ যেন প্রজাপতিকে ভালোবাসে এবং এটি সংরক্ষণে এগিয়ে আসে।
মেলায় অতিথিদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে পরিবেশ ও বন সংরক্ষণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মেলায় অংশ নেবেন। পরিবেশবন্ধনের সেক্রেটারি, বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ), আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য থাকবেন।”
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত প্রজাপতি মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বসতে যাচ্ছে ১৬তম প্রজাপতি মেলা। প্রজাপতির বৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এ মেলা ইতোমধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ মেলায় এসে প্রজাপতির বিচিত্র রূপ উপভোগ করেন।
































