অপরাধ ডেস্ক: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামে কস্টিক সোডা, তেল ও চিনি মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরির একটি কারখানার সন্ধান মিলেছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআই এবং উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ ও দুধ তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত দুজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশারের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে এই ভেজাল দুধের ব্যবসা চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ। এ সময় বাড়িটি থেকে প্রায় দুই হাজার ৭০০ কেজি জেলি, ২০০ লিটার তেল এবং ৩২০ লিটার তৈরি ভেজাল দুধ উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা এসব মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আট লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং পরে সেগুলো ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।
প্রশাসনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রথমে গরুর খাঁটি দুধ থেকে ক্রিম আলাদা করে নেওয়া হতো। এরপর সাধারণ পানির সঙ্গে কস্টিক সোডা, সয়াবিন তেল ও চিনি মিশিয়ে ঘন ও কৃত্রিম ভেজাল দুধ প্রস্তুত করা হতো। এসব ক্ষতিকর তরল পরে বিভিন্ন দোকানে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হতো। মূল অভিযুক্ত আবুল বাশারকে সহায়তার অভিযোগে তার সহযোগী সবুজকেও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত আবুল বাশারকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তার সহযোগী সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অভিযানে সহকারী কমিশনার ভূমি নুসরাত জাহান, এনএসআইয়ের উপপরিচালক এবিএম লুৎফুল কবির এবং পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অপরাধের দায়ে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।





















