ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

‘বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা’

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফরে বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে টোকিও। গত ৩০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সফরের বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই চার দিনের সরকারি সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে পারস্পরিক কল্যাণকর অর্থনৈতিক সম্পর্কে রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সফরের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আলোকেই এই সফর পরিচালিত হয়েছে যেখানে জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ এক লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই প্রস্তাবিত বিনিয়োগটি সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতের সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে এবং এটি কোনো ধরনের সরকারি ঋণের প্রতিশ্রুতি নয়। পারস্পরিক পরামর্শ ও মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ আলোচনার পর সুবিধাজনক সময়ে জাপানি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতীয় অগ্রাধিকার, সাশ্রয়যোগ্যতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করবে।

সফরে দুই দেশের মধ্যকার ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিআইজি-বি উদ্যোগকে উন্নীত করে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিআইজি-বি’ হিসেবে রূপান্তরে সম্মতি জানানো হয়েছে। এর আওতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প স্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, এই অর্থনৈতিক সম্পর্কের আলোচনা সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ছিল এবং এতে তৃতীয় কোনো দেশকে যুক্ত করা হয়নি। আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে সরকার সবসময় জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, এমআরটি প্রকল্প এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক সহনশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপানের ৫ হাজার কোটি ইয়েন জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী চলমান প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ করার তাগিদ দেন এবং সহজ শর্তে অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া ফাস্ট রিটেইলিং, মারুবেনি ও মিতসুবিশির মতো জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে পোশাকশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ এবং লাইসেন্স প্রদানে স্বচ্ছতা এনে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

জনপ্রিয়

সুন্দরবনে মাছের মজুদ: বেড়েছে ৯ প্রজাতির, কমেছে ৬

‘বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা’

প্রকাশিত ১২:৩৭:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফরে বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে টোকিও। গত ৩০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সফরের বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই চার দিনের সরকারি সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে পারস্পরিক কল্যাণকর অর্থনৈতিক সম্পর্কে রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সফরের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আলোকেই এই সফর পরিচালিত হয়েছে যেখানে জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ এক লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই প্রস্তাবিত বিনিয়োগটি সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতের সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে এবং এটি কোনো ধরনের সরকারি ঋণের প্রতিশ্রুতি নয়। পারস্পরিক পরামর্শ ও মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ আলোচনার পর সুবিধাজনক সময়ে জাপানি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতীয় অগ্রাধিকার, সাশ্রয়যোগ্যতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করবে।

সফরে দুই দেশের মধ্যকার ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিআইজি-বি উদ্যোগকে উন্নীত করে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিআইজি-বি’ হিসেবে রূপান্তরে সম্মতি জানানো হয়েছে। এর আওতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প স্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, এই অর্থনৈতিক সম্পর্কের আলোচনা সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ছিল এবং এতে তৃতীয় কোনো দেশকে যুক্ত করা হয়নি। আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে সরকার সবসময় জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, এমআরটি প্রকল্প এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক সহনশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপানের ৫ হাজার কোটি ইয়েন জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী চলমান প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ করার তাগিদ দেন এবং সহজ শর্তে অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া ফাস্ট রিটেইলিং, মারুবেনি ও মিতসুবিশির মতো জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে পোশাকশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ এবং লাইসেন্স প্রদানে স্বচ্ছতা এনে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।