জাতীয় ডেস্ক: পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে দ্বিতীয় দফায় পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই নিয়ন্ত্রিত উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। বিজ্ঞান ও মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় চুল্লির কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর অনুমোদন দেয়।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে রাশিয়ার সহযোগিতায় এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জটিলতা কাটিয়ে চুল্লিকে প্রাথমিক পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করার পর ক্রিটিক্যালিটি পর্যায় শুরু হয়। এই পর্যায়ে চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত ধারাবাহিক পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করা হয়। চুল্লির শক্তি উৎপাদনক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
প্রথম ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার আশা করছে চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই এই কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে এর আগে চুল্লির নিরাপত্তা কার্যক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয় যাচাই করতে হবে। পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে এই কেন্দ্র জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এদিকে রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্যও কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিংয়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।





































