ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo পিআরএবির সভাপতি ইয়াহিয়া, সম্পাদক নজরুল Logo লংমার্চ বাদ দিয়ে সংবিধান সংস্কারে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo ‘আবু খালেদ পাঠান সাহিত্য পুরস্কার’ পেলেন আনোয়ার-মাসুম Logo ‘যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয় ৫০ লাখের জায়গায় এক কোটি হবে’ Logo জাটকা শিকারে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে মধ্যরাত থেকে Logo আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৩ জেলার ৭০ চরমপন্থি Logo বিপর্যয় সামাল দিয়ে সেঞ্চুরি মিঠুন ও সোহানের Logo ইরানে ৪ নভেম্বর নাগাদ সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র Logo বাড়িতে ডিজে পার্টি, পুলিশের অভিযান, সেই অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত Logo দাদন ব্যাবসায়ীর ফাঁদে সর্বশান্ত শতাধিক পরিবার, ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৩ জেলার ৭০ চরমপন্থি

অপরাধ ডেস্ক: সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭০ জন চরমপন্থি সদস্য অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একসময়ে এসব অঞ্চল সর্বহারা চরমপন্থিদের সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের কারণে চরম আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে ওই অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত দিনে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের এই আত্মসমর্পণ করার কথা রয়েছে।

১৯৬৮ সাল থেকে এই অঞ্চলে মার্কস-লেনিন ও মাওবাদী আদর্শের কথা বলে প্রায় ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। এর মধ্যে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল ও সর্বহারা পার্টির বিভিন্ন উপদলের তৎপরতা আশির ও নব্বইয়ের দশকে সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করে। পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যকার আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্বের কোন্দলে দলগুলো খণ্ডিত হয়ে পড়ে এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে বড় ধরনের আত্মসমর্পণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এসআরবি-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়া জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণ করতে যাওয়া এসব সদস্যকে পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়াও এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশসহ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

এর আগেও ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে শতাধিক চরমপন্থি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে মূল ধারায় ফিরে এসেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে পাবনায় প্রায় ছয়শত এবং ২০২৩ সালে সিরাজগঞ্জে আরও তিন শতাধিক চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। অতীতের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার আরও ৭০ জন সদস্যের এই আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা চরমপন্থি সশস্ত্র তৎপরতা পুরোপুরি নির্মূল করে জনপদে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয়

পিআরএবির সভাপতি ইয়াহিয়া, সম্পাদক নজরুল

আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৩ জেলার ৭০ চরমপন্থি

প্রকাশিত ০৮:৩৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭০ জন চরমপন্থি সদস্য অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একসময়ে এসব অঞ্চল সর্বহারা চরমপন্থিদের সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের কারণে চরম আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে ওই অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত দিনে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের এই আত্মসমর্পণ করার কথা রয়েছে।

১৯৬৮ সাল থেকে এই অঞ্চলে মার্কস-লেনিন ও মাওবাদী আদর্শের কথা বলে প্রায় ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। এর মধ্যে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল ও সর্বহারা পার্টির বিভিন্ন উপদলের তৎপরতা আশির ও নব্বইয়ের দশকে সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করে। পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যকার আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্বের কোন্দলে দলগুলো খণ্ডিত হয়ে পড়ে এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে বড় ধরনের আত্মসমর্পণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এসআরবি-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়া জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণ করতে যাওয়া এসব সদস্যকে পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়াও এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশসহ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

এর আগেও ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে শতাধিক চরমপন্থি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে মূল ধারায় ফিরে এসেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে পাবনায় প্রায় ছয়শত এবং ২০২৩ সালে সিরাজগঞ্জে আরও তিন শতাধিক চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। অতীতের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার আরও ৭০ জন সদস্যের এই আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা চরমপন্থি সশস্ত্র তৎপরতা পুরোপুরি নির্মূল করে জনপদে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।