ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ, সুযোগ পাবেন যারা Logo ভালো উদ্যোগগুলো অনেক ক্ষেত্রে সংবাদে যথাযথভাবে উঠে আসে না: গণপূর্তমন্ত্রী Logo পিআরএবির সভাপতি ইয়াহিয়া, সম্পাদক নজরুল Logo লংমার্চ বাদ দিয়ে সংবিধান সংস্কারে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo ‘আবু খালেদ পাঠান সাহিত্য পুরস্কার’ পেলেন আনোয়ার-মাসুম Logo ‘যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয় ৫০ লাখের জায়গায় এক কোটি হবে’ Logo জাটকা শিকারে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে মধ্যরাত থেকে Logo আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৩ জেলার ৭০ চরমপন্থি Logo বিপর্যয় সামাল দিয়ে সেঞ্চুরি মিঠুন ও সোহানের Logo ইরানে ৪ নভেম্বর নাগাদ সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র

লংমার্চ বাদ দিয়ে সংবিধান সংস্কারে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রাজনীতি ডেস্ক: লংমার্চ কর্মসূচি পরিহার করে সংবিধান সংস্কারসহ জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মন্তব্য করেছেন যে লংমার্চের মাধ্যমে জটিল সমস্যার কোনো সমাধান আসবে না, বরং সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং ঐকমত্য অত্যন্ত জরুরি। ৩১ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথাগুলো বলেন। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার জন্ম না হয়, সে জন্য রাজনৈতিক ঐক্যের ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দেন।

সেমিনারের আলোচনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে অতীতে সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল যা সাংবিধানিক সংকটের সূচনা করে। এছাড়া ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার ফলেই মূলত দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছিল বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকেই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল বলে সেমিনারে তুলে ধরা হয়।

তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে রাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করার তাগিদ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান যে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার মাধ্যমে শক্তিশালী ওয়াচডগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি বিচারকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও তিনি অনুষ্ঠানে পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনী পদ্ধতিতে পিআর ব্যবস্থা এবং গণভোট সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজন চাওয়া হচ্ছে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান। জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের সম্মিলিত সমঝোতা ও ঐক্য অপরিহার্য বলে তিনি সংবাদে উল্লেখ করেন।

জনপ্রিয়

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ, সুযোগ পাবেন যারা

লংমার্চ বাদ দিয়ে সংবিধান সংস্কারে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত ০৯:৩৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: লংমার্চ কর্মসূচি পরিহার করে সংবিধান সংস্কারসহ জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মন্তব্য করেছেন যে লংমার্চের মাধ্যমে জটিল সমস্যার কোনো সমাধান আসবে না, বরং সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং ঐকমত্য অত্যন্ত জরুরি। ৩১ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথাগুলো বলেন। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার জন্ম না হয়, সে জন্য রাজনৈতিক ঐক্যের ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দেন।

সেমিনারের আলোচনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে অতীতে সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল যা সাংবিধানিক সংকটের সূচনা করে। এছাড়া ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার ফলেই মূলত দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছিল বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকেই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল বলে সেমিনারে তুলে ধরা হয়।

তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে রাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করার তাগিদ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান যে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার মাধ্যমে শক্তিশালী ওয়াচডগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি বিচারকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও তিনি অনুষ্ঠানে পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনী পদ্ধতিতে পিআর ব্যবস্থা এবং গণভোট সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজন চাওয়া হচ্ছে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান। জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের সম্মিলিত সমঝোতা ও ঐক্য অপরিহার্য বলে তিনি সংবাদে উল্লেখ করেন।