ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

রাজনৈতিক দলের এত টাকা আসে কোথা থেকে?

রাজনীতি ডেস্ক: দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বছরে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়ন, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নেতৃত্ব নির্বাচন, প্রার্থী মনোনয়ন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কাঠামো থাকলে একটি দলের সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় দাঁড়ায় ৩০২ থেকে ৩৯৩ কোটি টাকা এবং ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হলে এই ব্যয় এক হাজার ৫৩২ থেকে দুই হাজার ১৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

অথচ সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে এই বিপুল ব্যয়ের সামান্য অংশই মেটানো সম্ভব হয় বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামোর ক্ষেত্রে সদস্যদের চাঁদা থেকে সম্ভাব্য আয় মাত্র ১১৬ কোটি টাকা হয়ে থাকে। রাজনৈতিক অর্থায়নে ব্যক্তিনির্ভরতা ও অনানুষ্ঠানিক উৎসের প্রাধান্যের কারণে দলগুলো ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর ফলে রাজনীতিতে ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি কালো টাকার প্রভাব ও দুর্বৃত্তায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দলগুলোর প্রকাশিত আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে সম্ভাব্য ব্যয়ের বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন যে, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও কার্যক্রম পরিচালনা অতিমাত্রায় অর্থনির্ভর হয়ে পড়ায় দলগুলো বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনানুষ্ঠানিকতার কারণে প্রভাবশালী দলগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্তর্দ্বন্দ্ব বিকশিত হচ্ছে এবং দলগুলো ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেলে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক দলের নিজস্ব আর্থিক নীতিমালা বা স্পষ্ট বিধি নেই এবং তারা নিয়মিত বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করে না। প্রকৃত বার্ষিক আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় দলগুলোর অর্থের উৎস ও ব্যয়ের খাত সম্পর্কে মানুষের জানার সুযোগ সীমিত রয়েছে।

এ ছাড়া দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা ও প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরেছে গবেষণা দলটি। অধিকাংশ দল গোপন ব্যালটের পরিবর্তে কণ্ঠভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন করে এবং দলগুলোতে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের নজির ও দীর্ঘমেয়াদী একই পদে থাকার প্রবণতা রয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগও পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আর্থিক হিসাব যাচাইসহ ১২ দফা সুপারিশ পেশ করেছে টিআইবি।

জনপ্রিয়

বিইউএফটিতে সপ্তম টেক্সটাইল গবেষণা সম্মেলন

রাজনৈতিক দলের এত টাকা আসে কোথা থেকে?

প্রকাশিত ১২:২২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বছরে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়ন, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নেতৃত্ব নির্বাচন, প্রার্থী মনোনয়ন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কাঠামো থাকলে একটি দলের সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় দাঁড়ায় ৩০২ থেকে ৩৯৩ কোটি টাকা এবং ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হলে এই ব্যয় এক হাজার ৫৩২ থেকে দুই হাজার ১৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

অথচ সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে এই বিপুল ব্যয়ের সামান্য অংশই মেটানো সম্ভব হয় বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামোর ক্ষেত্রে সদস্যদের চাঁদা থেকে সম্ভাব্য আয় মাত্র ১১৬ কোটি টাকা হয়ে থাকে। রাজনৈতিক অর্থায়নে ব্যক্তিনির্ভরতা ও অনানুষ্ঠানিক উৎসের প্রাধান্যের কারণে দলগুলো ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর ফলে রাজনীতিতে ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি কালো টাকার প্রভাব ও দুর্বৃত্তায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দলগুলোর প্রকাশিত আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে সম্ভাব্য ব্যয়ের বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন যে, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও কার্যক্রম পরিচালনা অতিমাত্রায় অর্থনির্ভর হয়ে পড়ায় দলগুলো বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনানুষ্ঠানিকতার কারণে প্রভাবশালী দলগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্তর্দ্বন্দ্ব বিকশিত হচ্ছে এবং দলগুলো ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেলে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক দলের নিজস্ব আর্থিক নীতিমালা বা স্পষ্ট বিধি নেই এবং তারা নিয়মিত বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করে না। প্রকৃত বার্ষিক আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় দলগুলোর অর্থের উৎস ও ব্যয়ের খাত সম্পর্কে মানুষের জানার সুযোগ সীমিত রয়েছে।

এ ছাড়া দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা ও প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরেছে গবেষণা দলটি। অধিকাংশ দল গোপন ব্যালটের পরিবর্তে কণ্ঠভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন করে এবং দলগুলোতে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের নজির ও দীর্ঘমেয়াদী একই পদে থাকার প্রবণতা রয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগও পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আর্থিক হিসাব যাচাইসহ ১২ দফা সুপারিশ পেশ করেছে টিআইবি।