রাজনীতি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন মাহমুদুর রহমান সম্পাদিত আমার দেশ পত্রিকার বিরুদ্ধে তাঁর সম্পর্কে অসত্য বয়ান তৈরির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ওই পত্রিকাটি সবার সামনে ছিঁড়ে ফেলেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের জেরে তিনি এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং এর মাধ্যমে নিজের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
উক্ত সংবাদপত্রে ‘এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি!’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ফেসবুকে শেয়ার করে রাশেদ খাঁন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তার প্রশ্ন, কীভাবে একজন সম্পাদক তার ছবি ব্যবহার করে তাকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ হিসেবে ট্যাগিং করার স্পর্ধা দেখান এবং তাকে নব্য বিএনপি বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, কোনো ধরনের সম্পাদকীয় নীতিমালা না মেনেই তার বিরুদ্ধে এই ভুয়া ও অসত্য ন্যারেটিভ দাঁড় করানো হয়েছে। অথচ তিনি অতীতে শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করার মামলায় ১৫ দিন রিমান্ডে নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং কারাবাস করেছেন বলেও স্মরণ করিয়ে দেন।
নিজের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন জানান, তার কোনো মন্তব্য না নিয়েই পত্রিকাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে আসছিল। তিনি বলেন, চুপ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত এই অপচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হতো, তাই তিনি নিজ দায়িত্বে ওই মিথ্যা বয়ান ও প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আঁতাতের মিথ্যা দাগ গায়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিগত কিছুদিন ধরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে রাশেদ খাঁনের পত্রিকা ছেঁড়ার এই ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একে স্বাধীন সাংবাদিকতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তবে জামায়াত নেতার এই বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন পাল্টা অভিযোগ করেন যে, জামায়াতের ফান্ডিং ও পরামর্শেই পত্রিকাটি তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। তিনি ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের এমন ভূমিকার কারণে ওই পত্রিকার নাম পরিবর্তন করে ‘জামায়াতের দেশ’ রাখা উচিত। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানাবিধ প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

































