রাজনীতি ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মহাসমাবেশ থেকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে অবৈধ ও ভোট চুরি বলে আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সমাবেশে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদবসহ বিরোধীদের একাধিক শীর্ষ নেতা অংশ নেন। ভোটার তালিকা থেকে ১৫ শতাংশ ভোটার বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।
সমাবেশ থেকে রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তাকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ দেশের শীর্ষ পদে বসতে পারতেন না। এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি একে দেশদ্রোহিতার শামل বলে মন্তব্য করেন। বিরোধীদের অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে ভোটের সমীকরণ বদলাতেই এই কারচুপি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে যে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে রাহুল গান্ধী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর পর মোদী ও অমিত শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করে গণতন্ত্র রক্ষা করা হবে এবং তারা যেন পালিয়ে বাঁচার কথা না ভাবেন। কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত সরকারি সংস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং এর ফলে গরিব মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তব্যে নিজের পছন্দের ভারতের রূপরেখা তুলে ধরে রাহুল বলেন, কৃষকদের স্বপ্ন পূরণ এবং তরুণদের উপযুক্ত শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ বা জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি ব্যক্তিগত কোনো ঘৃণা নেই বলে উল্লেখ করলেও সংবিধান ধ্বংসের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানান তিনি। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সমাজের একেবারে শেষ সারিতে থাকা মানুষের কণ্ঠস্বর ও অধিকার রক্ষা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।



































