অর্থনীতি ডেস্ক: বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল ও ডলারের দর স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা দরে ব্যাংকগুলোর কাছে এই বিদেশি মুদ্রা বিক্রি করা হয়। আমদানি ব্যয়ের চাপ এবং আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে এলসি খোলার চাহিদা বাড়ায় ডলারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বাজারের এই পরিস্থিতি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত সপ্তাহেও নিলামের মাধ্যমে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিভিন্ন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নানা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বৃদ্ধি পায় এবং রিজার্ভ কমতে শুরু করে। তবে পরবর্তী সময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানামুখী পদক্ষেপে রিজার্ভ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তা সত্ত্বেও জ্বালানি তেল ও এলপিজি আমদানির উচ্চ খরচের কারণে বাজারে ডলারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের বিনিময় হার ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহে আন্তব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দর ১২৪ টাকা অতিক্রম করেছে এবং গত কয়েক দিন ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। অক্টোবর মাসের শুরুতে এই হার কম থাকলেও মাসের শেষ কার্যদিবসে তা প্রায় ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায় দাঁড়ায়। ব্যাংক খাতের পাশাপাশি খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেটেও ডলারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে প্রতি ডলার ১২৮ টাকা ১০ পয়সায় বিক্রি এবং ১২৭ টাকা ১০ পয়সায় কেনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমার ইতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়বে। এছাড়া সামনে আকুর আমদানি বিল পরিশোধের বিষয়টিও রিজার্ভের হিসাবের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাজার স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, সময়োপযোগী এসব পদক্ষেপে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে।




































