ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

সকালে শুভ্র, বিকালে রক্তিম রঙের মায়ায় স্থলপদ্ম

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: একসময়ে গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা এবং বিলুপ্তির পথে থাকা স্থলপদ্ম ফুল পরম মমতায় বাঁচিয়ে রেখেছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর এলাকার কল্যাণী মজুমদার। শাশুড়ির কাছ থেকে পাওয়া একটি মাত্র গাছের ডাল থেকে বর্তমানে নিজের বাড়ি ও পাশের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। দিনের বিভিন্ন সময়ে রঙ পরিবর্তনের জাদুকরি বৈশিষ্ট্যের কারণে এই ফুল দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করছেন। চীন ও তাইওয়ানের আদি এই উদ্ভিদ জবা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘হিবিসকাস মিউটাবিলিস’ বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার জানান, এই ফুলের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর রঙ পরিবর্তন করার ক্ষমতা। সকালে সাদা বা হালকা গোলাপি রঙের ফুলটি বেলা বাড়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে গাঢ় গোলাপি ও বিকেলে লালচে রঙ ধারণ করে। শরৎ ও হেমন্তকালে ফোটা এই ফুলের নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে ঔষধি গুণও। তবে অসচেতনতা ও সংরক্ষণের অভাবে একসময়ে গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসা এই উদ্ভিদ এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। জলাবদ্ধতামুক্ত দোআঁশ মাটি এই গাছের বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে উপযোগী এবং বর্ষাকালে ডাল কেটে সহজেই এর বংশবিস্তার করা যায়।

কল্যাণী মজুমদার জানান, তার শাশুড়ি মায়ারাণী মজুমদার ভারত থেকে ফেরার পথে একটি ডাল এনেছিলেন, যা পরবর্তীতে বংশবৃদ্ধি করে আজ শত শত ফুলে রূপ নিয়েছে। শখের বশে বাড়ি ও পাশের বর্ণমালা স্কুলের প্রাঙ্গণে বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য ফল ও ফুলের গাছ সংরক্ষণ করেন তিনি, যেখানে তার সন্তানও তাকে সহযোগিতা করে। বর্ণমালা স্কুলের প্রধান শিক্ষক পল্লব মজুমদার বলেন, এই গাছটি বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয় তরুণীরাও এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে স্থলপদ্মের রূপ দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।

কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন সাহা উল্লেখ করেন যে, স্থলপদ্ম গাছ পরিচর্যা করতে খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয় না এবং অল্প যত্নেই এটি সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার আরও জানান, গাছটিকে প্রতিদিন অন্তত চার থেকে ছয় ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলোতে রাখলে খুব সহজেই বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে এর বিস্তার ঘটানো সম্ভব। কল্যাণী মজুমদারের এই উদ্যোগ এলাকার পরিবেশপ্রেমীদের উদ্ভিদজগৎ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুনভাবে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছি।

জনপ্রিয়

সকালে শুভ্র, বিকালে রক্তিম রঙের মায়ায় স্থলপদ্ম

সকালে শুভ্র, বিকালে রক্তিম রঙের মায়ায় স্থলপদ্ম

প্রকাশিত ০২:০৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: একসময়ে গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা এবং বিলুপ্তির পথে থাকা স্থলপদ্ম ফুল পরম মমতায় বাঁচিয়ে রেখেছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর এলাকার কল্যাণী মজুমদার। শাশুড়ির কাছ থেকে পাওয়া একটি মাত্র গাছের ডাল থেকে বর্তমানে নিজের বাড়ি ও পাশের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। দিনের বিভিন্ন সময়ে রঙ পরিবর্তনের জাদুকরি বৈশিষ্ট্যের কারণে এই ফুল দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করছেন। চীন ও তাইওয়ানের আদি এই উদ্ভিদ জবা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘হিবিসকাস মিউটাবিলিস’ বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার জানান, এই ফুলের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর রঙ পরিবর্তন করার ক্ষমতা। সকালে সাদা বা হালকা গোলাপি রঙের ফুলটি বেলা বাড়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে গাঢ় গোলাপি ও বিকেলে লালচে রঙ ধারণ করে। শরৎ ও হেমন্তকালে ফোটা এই ফুলের নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে ঔষধি গুণও। তবে অসচেতনতা ও সংরক্ষণের অভাবে একসময়ে গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসা এই উদ্ভিদ এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। জলাবদ্ধতামুক্ত দোআঁশ মাটি এই গাছের বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে উপযোগী এবং বর্ষাকালে ডাল কেটে সহজেই এর বংশবিস্তার করা যায়।

কল্যাণী মজুমদার জানান, তার শাশুড়ি মায়ারাণী মজুমদার ভারত থেকে ফেরার পথে একটি ডাল এনেছিলেন, যা পরবর্তীতে বংশবৃদ্ধি করে আজ শত শত ফুলে রূপ নিয়েছে। শখের বশে বাড়ি ও পাশের বর্ণমালা স্কুলের প্রাঙ্গণে বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য ফল ও ফুলের গাছ সংরক্ষণ করেন তিনি, যেখানে তার সন্তানও তাকে সহযোগিতা করে। বর্ণমালা স্কুলের প্রধান শিক্ষক পল্লব মজুমদার বলেন, এই গাছটি বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয় তরুণীরাও এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে স্থলপদ্মের রূপ দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।

কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন সাহা উল্লেখ করেন যে, স্থলপদ্ম গাছ পরিচর্যা করতে খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয় না এবং অল্প যত্নেই এটি সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার আরও জানান, গাছটিকে প্রতিদিন অন্তত চার থেকে ছয় ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলোতে রাখলে খুব সহজেই বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে এর বিস্তার ঘটানো সম্ভব। কল্যাণী মজুমদারের এই উদ্যোগ এলাকার পরিবেশপ্রেমীদের উদ্ভিদজগৎ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুনভাবে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছি।