ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

‘দেশে-বিদেশে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে’

অপরাধ ডেস্ক: দেশের ভেতরে ও বাইরে সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্রকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সম্প্রতি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি নিহত সেনাসদস্যের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান। অপরাধীদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিহত তিতাস শেখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন দক্ষ ও সাহসী সৈনিক ছিলেন বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। গত ৫ নভেম্বর কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ে অভিযান চালানোর সময় মানব পাচারকারীদের গুলিতে তিনি প্রাণ হারান। পরে ৬ নভেম্বর সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া তিতাস ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজো।

মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর বলে জানিয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। অপরাধী চক্রকে শনাক্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে বলে তিনি জানান। সম্প্রতি ১৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের নিয়ে মানব পাচারবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সভায় ওয়ার্ড থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে নিখোঁজ বা জিম্মি বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিগত বছরগুলোতে মাদক কারবারি ও বিভিন্ন মাফিয়া চক্রের সঙ্গে মানব পাচারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব চক্রের নেটওয়ার্ক শুধু দেশের ভেতরে নয়, বিদেশেও বিস্তৃত রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পাচারকারীদের তৎপরতা বন্ধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিতাসের বাড়িতে এই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে আলোচনা সভা

‘দেশে-বিদেশে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে’

প্রকাশিত ০৮:৫২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: দেশের ভেতরে ও বাইরে সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্রকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সম্প্রতি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি নিহত সেনাসদস্যের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান। অপরাধীদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিহত তিতাস শেখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন দক্ষ ও সাহসী সৈনিক ছিলেন বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। গত ৫ নভেম্বর কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ে অভিযান চালানোর সময় মানব পাচারকারীদের গুলিতে তিনি প্রাণ হারান। পরে ৬ নভেম্বর সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া তিতাস ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজো।

মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর বলে জানিয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। অপরাধী চক্রকে শনাক্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে বলে তিনি জানান। সম্প্রতি ১৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের নিয়ে মানব পাচারবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সভায় ওয়ার্ড থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে নিখোঁজ বা জিম্মি বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিগত বছরগুলোতে মাদক কারবারি ও বিভিন্ন মাফিয়া চক্রের সঙ্গে মানব পাচারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব চক্রের নেটওয়ার্ক শুধু দেশের ভেতরে নয়, বিদেশেও বিস্তৃত রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পাচারকারীদের তৎপরতা বন্ধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিতাসের বাড়িতে এই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।