জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে যথাযোগ্য সম্মানের সহিত পালিত হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবসের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এ আগে তিনি শহিদ মিনারের পাদদেশে শহীদ দিবসের পতাকা উত্তোলন করেন।
শহীদ মিনারের পুষ্পক অর্পণ শেষে জাকসুর সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের পক্ষ থেকে আমরা ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় তাঁদের আত্মত্যাগকে ধারণ করে শুদ্ধ বাংলা চর্চা ও সব আঞ্চলিক ভাষার প্রতি সম্মান বজায় রাখার অঙ্গীকার করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “একটি জাতির পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তার মাতৃভাষা, আর সেই ভাষার জন্য রক্তদান পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আমাদের এই আত্মত্যাগ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এরই স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা আজ বিশ্বব্যাপী উদ্যাপিত হচ্ছে।”
“একটি জাতিকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় সমৃদ্ধ করতে হলে মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চা অত্যন্ত জরুরি। মাতৃভাষায় শিক্ষা ও গবেষণা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুধাবনকে সহজ করে, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং জ্ঞান উৎপাদনকে জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত করে। গবেষক ও শিক্ষাবিদরা শুধু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য নয়, বরং মাতৃভাষায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কাজ করবেন” বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উপাচার্য ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু), শিক্ষক সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা ক্লাব, জিয়া শিক্ষক পরিষদ, জাবি শাখা ছাত্রদল, জাবি সাংবাদিক সমিতি, প্রেস ক্লাব, অফিসার সমিতি, কর্মচারী সমিতি, কর্মচারী ইউনিয়ন, মুক্তিযুদ্ধের আর্দশের শিক্ষক পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
দিবসটি উপলক্ষে বিকালে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্টার, শিক্ষক, অফিসারসহ কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।




















