ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে  Logo ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে মিললো সমাধান, ববি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার Logo জাবিতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সংঘের সভাপতি হাসান, সম্পাদক কাফী Logo কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’

ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে 

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা পুরানা পল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন—যেখানে একসময় ফুটপাত মানেই ছিল দখল, ভিড় আর ভোগান্তি—সেই চিত্রে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানের ফলে অনেক সড়কের ফুটপাত এখন তুলনামূলক ফাঁকা। এতে স্বস্তি নিয়ে হেঁটে চলছেন পথচারীরা, কমেছে যানজটও।

দুপুর ১টার দিকে পল্টন থেকে কাকরাইল পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলমুক্ত হওয়ায় ফুটপাতগুলো অনেকটাই চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে পথচারীদের বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হতো, এখন সেখানে তারা নিশ্চিন্তে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছেন। এর প্রভাব পড়েছে যান চলাচলেও—আগের তুলনায় যানজট কম দেখা গেছে।

ডিআইটি এক্সটেনশন রোড ও ফকিরাপুল এলাকার ফুটপাত প্রায় সম্পূর্ণ ফাঁকা। এসব এলাকায় পথচারীদের হাঁটাচলায় স্বস্তির দৃশ্য চোখে পড়েছে। যদিও কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ কিছু দোকান এখনো দেখা গেছে, তবে তা খুব সীমিত পরিসরে।

পথচারী মামুন মিয়া বলেন, “আগে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগই ছিল না। এখন অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছি। যানজটও কিছুটা কমেছে।”

তবে পুরো চিত্র একরকম নয়। মতিঝিলের টয়েনবি সার্কুলার রোড ও আশপাশের কিছু এলাকায় এখনো ফুটপাত দখল করে বসেছে কিছু দোকান, বিশেষ করে চা ও খাবারের দোকান। বিক্রেতারা বলছেন, তারা স্থায়ীভাবে বসেন না—প্রশাসন বললে সরে যাবেন।

মতিঝিলের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, অনেক দোকানি এখনো নতুন করে বসতে সাহস পাননি। তবে কিছু কিছু জায়গায় আবার ধীরে ধীরে দোকান বসতে শুরু করেছে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর পাশের ফুটপাতে দুই পাশে পোশাকের দোকান বসায় পথচারীদের চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। একই চিত্র দেখা গেছে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এবং ফুলবাড়িয়া ফ্লাইওভার থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে। এসব এলাকায় ফুটপাত আংশিক দখল হওয়ায় পথচারীদের আবারও রাস্তার পাশে হাঁটতে হচ্ছে, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

দোকানি মোহসীন মিন্টু বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আমাদের পরিবার এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। উচ্ছেদের আগে আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত পুনর্বাসন এবং কঠোর নজরদারি। তা না হলে কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

ফুটপাত উচ্ছেদে নগরবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ—যেখানে পথচারীর অধিকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি।

জনপ্রিয়

ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে 

ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে 

প্রকাশিত ১১:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা পুরানা পল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন—যেখানে একসময় ফুটপাত মানেই ছিল দখল, ভিড় আর ভোগান্তি—সেই চিত্রে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানের ফলে অনেক সড়কের ফুটপাত এখন তুলনামূলক ফাঁকা। এতে স্বস্তি নিয়ে হেঁটে চলছেন পথচারীরা, কমেছে যানজটও।

দুপুর ১টার দিকে পল্টন থেকে কাকরাইল পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলমুক্ত হওয়ায় ফুটপাতগুলো অনেকটাই চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে পথচারীদের বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হতো, এখন সেখানে তারা নিশ্চিন্তে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছেন। এর প্রভাব পড়েছে যান চলাচলেও—আগের তুলনায় যানজট কম দেখা গেছে।

ডিআইটি এক্সটেনশন রোড ও ফকিরাপুল এলাকার ফুটপাত প্রায় সম্পূর্ণ ফাঁকা। এসব এলাকায় পথচারীদের হাঁটাচলায় স্বস্তির দৃশ্য চোখে পড়েছে। যদিও কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ কিছু দোকান এখনো দেখা গেছে, তবে তা খুব সীমিত পরিসরে।

পথচারী মামুন মিয়া বলেন, “আগে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগই ছিল না। এখন অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছি। যানজটও কিছুটা কমেছে।”

তবে পুরো চিত্র একরকম নয়। মতিঝিলের টয়েনবি সার্কুলার রোড ও আশপাশের কিছু এলাকায় এখনো ফুটপাত দখল করে বসেছে কিছু দোকান, বিশেষ করে চা ও খাবারের দোকান। বিক্রেতারা বলছেন, তারা স্থায়ীভাবে বসেন না—প্রশাসন বললে সরে যাবেন।

মতিঝিলের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, অনেক দোকানি এখনো নতুন করে বসতে সাহস পাননি। তবে কিছু কিছু জায়গায় আবার ধীরে ধীরে দোকান বসতে শুরু করেছে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর পাশের ফুটপাতে দুই পাশে পোশাকের দোকান বসায় পথচারীদের চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। একই চিত্র দেখা গেছে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এবং ফুলবাড়িয়া ফ্লাইওভার থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে। এসব এলাকায় ফুটপাত আংশিক দখল হওয়ায় পথচারীদের আবারও রাস্তার পাশে হাঁটতে হচ্ছে, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

দোকানি মোহসীন মিন্টু বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আমাদের পরিবার এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। উচ্ছেদের আগে আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত পুনর্বাসন এবং কঠোর নজরদারি। তা না হলে কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

ফুটপাত উচ্ছেদে নগরবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ—যেখানে পথচারীর অধিকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি।