ঢাকা ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo পাখির বাসায় হাত দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, রাজশাহীতে কিশোরের মৃত্যু Logo পাকুন্দিয়ায় সচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo শুধু ডিগ্রি নয়, সবুজ ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি: হাবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের অনন্য উদ্যোগ Logo আগামীর বাংলাদেশে যুবকদের মাদকের ছোঁয়া লাগতে দেওয়া হবে না: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম Logo বগুড়ায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই যুবকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা Logo বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রাবি উপাচার্যের বৃক্ষরোপণ : ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের অঙ্গিকার Logo জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কুবিতে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল Logo বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী Logo কারামুক্ত আইভী লড়বেন আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে Logo কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল বৌ-শাশুড়ির

বগুড়ায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই যুবকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

বগুড়ার সোনাতলায় পারিবারিক শত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাজমুল হক এবং মোঃ বকুল ওরফে হালিমের নেতৃত্বে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক রবিউল ইসলাম শাকিল এবং তার ভাই ফরহাদুদ জামান পলাশ, মিজানুর রহমান গুরুতর লাঞ্ছিত ও আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সোনাতলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।

‎প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে জমিজমা নিয়ে নাজমুল হক ও বকুল গ্রুপের সাথে সাংবাদিক শাকিলের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে ইতিপূর্বেও নাজমুল ও বকুল মুঠোফোনে বিভিন্ন সময় তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।

‎ঘটনার দিন (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম শাকিল, তার ভাই পলাশ ও মিজান সোনাতলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে বসে ছিলেন। এ সময় মূল অভিযুক্ত নাজমুল হক সাংবাদিক শাকিলের মুঠোফোনে কল করে উত্তেজিত কণ্ঠে জানতে চায়, “কোথায় তুই? তুই বলে মারবি, আয় স্টেশন আয়।” জবাবে শাকিল জানান যে তারা স্টেডিয়ামে আছেন। ফোন রাখার পরপরই পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাজমুল ও বকুলের নেতৃত্বে মাহাদী হাসানসহ ১২-১৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে স্টেডিয়াম মাঠে প্রবেশ করে এবং তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রটি এর আগেও এই পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি সাংবাদিক শাকিল ও পলাশের বাবা ওমর ফারুকের ওপর প্রথম হামলা চালায় নাজমুল হক, তার বাবা মোজাম্মেল হক এবং বকুল ওরফে হালিম। এর পরদিনই (১২ জানুয়ারি) বালিয়াডাঙা গ্রামে ওমর ফারুকের পুত্র ফরহাদুদ জামান পলাশ, কন্যা তহসিনা খাতুন এবং স্ত্রী শাহিনুর বেগম গেলে তাদের ওপরও নৃশংস হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

‎পূর্বের ঘটনার কোনো সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে এই দফায় সরাসরি মাঠে নেমেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে স্টেডিয়ামের মতো জনাকীর্ণ স্থানে একজন সংবাদকর্মী ও যুবকদের ওপর এমন কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এ বিষয়ে সোনাতলা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

পাখির বাসায় হাত দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, রাজশাহীতে কিশোরের মৃত্যু

বগুড়ায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই যুবকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

প্রকাশিত ০১:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

বগুড়ার সোনাতলায় পারিবারিক শত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাজমুল হক এবং মোঃ বকুল ওরফে হালিমের নেতৃত্বে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক রবিউল ইসলাম শাকিল এবং তার ভাই ফরহাদুদ জামান পলাশ, মিজানুর রহমান গুরুতর লাঞ্ছিত ও আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সোনাতলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।

‎প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে জমিজমা নিয়ে নাজমুল হক ও বকুল গ্রুপের সাথে সাংবাদিক শাকিলের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে ইতিপূর্বেও নাজমুল ও বকুল মুঠোফোনে বিভিন্ন সময় তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।

‎ঘটনার দিন (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম শাকিল, তার ভাই পলাশ ও মিজান সোনাতলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে বসে ছিলেন। এ সময় মূল অভিযুক্ত নাজমুল হক সাংবাদিক শাকিলের মুঠোফোনে কল করে উত্তেজিত কণ্ঠে জানতে চায়, “কোথায় তুই? তুই বলে মারবি, আয় স্টেশন আয়।” জবাবে শাকিল জানান যে তারা স্টেডিয়ামে আছেন। ফোন রাখার পরপরই পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাজমুল ও বকুলের নেতৃত্বে মাহাদী হাসানসহ ১২-১৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে স্টেডিয়াম মাঠে প্রবেশ করে এবং তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রটি এর আগেও এই পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি সাংবাদিক শাকিল ও পলাশের বাবা ওমর ফারুকের ওপর প্রথম হামলা চালায় নাজমুল হক, তার বাবা মোজাম্মেল হক এবং বকুল ওরফে হালিম। এর পরদিনই (১২ জানুয়ারি) বালিয়াডাঙা গ্রামে ওমর ফারুকের পুত্র ফরহাদুদ জামান পলাশ, কন্যা তহসিনা খাতুন এবং স্ত্রী শাহিনুর বেগম গেলে তাদের ওপরও নৃশংস হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

‎পূর্বের ঘটনার কোনো সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে এই দফায় সরাসরি মাঠে নেমেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে স্টেডিয়ামের মতো জনাকীর্ণ স্থানে একজন সংবাদকর্মী ও যুবকদের ওপর এমন কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এ বিষয়ে সোনাতলা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।