জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং সেই সময়ের ইতিহাস সংরক্ষণে ধারাবাহিকভাবে বই লিখছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইস্রাফিল আকন্দ রুদ্র। একই লক্ষ্য নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন গবেষণাধর্মী প্ল্যাটফর্ম ‘Tales of July-জুলাইয়ের কথা’, যেখানে জুলাই-সম্পর্কিত বই প্রকাশ ও দলিল সংরক্ষণের কাজ চলছে।
আগামী মাসে দেশের সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার নতুন গ্রন্থ ‘রিকশা, রক্ত ও গণ-অভ্যুত্থান’। বইটিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী ৩৬ জন শহীদ রিকশাচালকের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে তার প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বাংলা বিভাগের মেয়ে’-এর দুটি মুদ্রণ শেষ হয়েছে। শিগগিরই বইটির তৃতীয় মুদ্রণ প্রকাশিত হবে। এছাড়া তিনি লিখেছেন ‘জুলাইয়ের ফুল’, যেখানে ১১১ জন শিশু-কিশোর শহীদের জীবনালেখ্য স্থান পেয়েছে।
‘টেলস অব জুলাই’ থেকে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘শহীদ ওসমান হাদি: স্মৃতিতে, সাহিত্যে ও সংগ্রামে’, ‘শহীদ আনাস স্মরণ সংখ্যা’, ‘রক্তাক্ত জুলাইয়ের কবিতা’, ‘ইন্টারনেট ক্র্যাকডাউনের দিনগুলো’, ‘শহীদ মুগ্ধ স্মরণ সংখ্যা’ এবং ‘শহীদ আবরার ফাহাদ স্মরণ সংখ্যা’।
জুলাই নিয়ে কাজ করার প্রেরণার কথা জানিয়ে ইস্রাফিল আকন্দ রুদ্র বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচন দেখার পর থেকেই তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা আমাকে ভাবিয়েছে। তখন থেকেই কবিতা ও বিভিন্ন লেখায় সমাজ ও রাজনীতির কলুষতার বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। জুলাই নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে শহীদদের রক্ত।”

তিনি বলেন, “গ্রামে থাকায় জুলাইয়ের দিনগুলোতে রাজপথে সেভাবে থাকতে পারিনি। তবে এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছি, রক্ত দেখেছি। শহীদ হতে পারিনি, তাই বেঁচে থাকাকে শহীদদের স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব হিসেবে দেখি। সেই দায়বোধ থেকেই কাজ করে যাচ্ছি।”
রুদ্র জানান, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের নিয়ে প্রথমে ‘Tales of July-জুলাইয়ের কথা’ নামে একটি সাহিত্য সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ নেন। পরে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পর সময় যত যাচ্ছিল, দেখলাম জুলাই একপ্রকার হারিয়ে যাচ্ছে। তখন মনে হলো, শুধু একটি সংকলন নয়, ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই ‘টেলস অব জুলাই’কে পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য মানুষের মননে জুলাইকে জাগিয়ে রাখা এবং ইতিহাস সংরক্ষণ করা। দীর্ঘমেয়াদে এটিকে একটি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছি। জুলাই নিয়ে গবেষণা ও দলিল সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইতিহাস অনেক সময় হারিয়ে যায় বা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়।”
রুবেল/জাককানইবি






























