২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্যাপক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মেক্সিকো। যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ যৌনতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দেশটি ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিনামূল্যে বিতরণের পরিকল্পনা করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে এবার আয়োজন করছে মেক্সিকো। এর মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকার দেশটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তৃতীয়বার বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাচ্ছে।
মেক্সিকোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্তেরেতে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য এই কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। কনডম বিতরণের পাশাপাশি এইচআইভি, সিফিলিস ও গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত সংক্রমণ (এসটিআই) সম্পর্কে সচেতনতামূলক তথ্যপত্রও সরবরাহ করা হবে।
বিশ্বকাপ স্বাস্থ্য পরিচালনা কমিটির সদস্য রোক্সানা ত্রেহো স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এল সোল দে মেক্সিকোকে জানান, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে বিশেষ বুথ স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে কনডম ও স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। তার ভাষায়, “তথ্য ছাড়া কনডম দেওয়া মানে যেন কারও পকেটে শুধু একটি মিষ্টি রেখে দেওয়া।”
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু স্টেডিয়াম বা ফ্যান জোন নয়, বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা, বার, রেস্তোরাঁ এবং সমর্থকদের জমায়েতস্থলেও তথ্যকেন্দ্র ও কনডম বিতরণ বুথ স্থাপন করা হবে।
কর্তৃপক্ষের মতে, বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া আসরের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে যৌনস্বাস্থ্য, প্রতিরোধ এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তারা আরও উল্লেখ করেছে, যৌনবাহিত রোগ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধে কনডম এখনো সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।
বিশ্বকাপে অলিম্পিক গেমসের মতো কনডম বিতরণের কোনো আনুষ্ঠানিক ঐতিহ্য নেই। কারণ অলিম্পিকে খেলোয়াড়রা একটি কেন্দ্রীয় অ্যাথলেটস ভিলেজে অবস্থান করলেও বিশ্বকাপে বিভিন্ন দল আলাদা হোটেল ও ট্রেনিং ক্যাম্পে থাকে। ফলে ফিফা এ ধরনের কোনো কর্মসূচি পরিচালনা করে না। বরং আয়োজক দেশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষই দর্শনার্থীদের লক্ষ্য করে জনস্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
উল্লেখ্য, গত চার দশক ধরে অলিম্পিক গেমসে কনডম বিতরণ একটি নিয়মিত প্রথা। সর্বশেষ প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকে প্রায় তিন লাখ কনডম সরবরাহ করা হয়েছিল। ১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিক থেকেই নিরাপদ যৌনতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগের সূচনা হয়।






















