ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার পণ্য আত্মসাৎ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল Logo শার্শায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি কর্মীকে হাতুড়িপেটা Logo কৃত্রিম হাত ও প্রতিরক্ষা মিসাইল উদ্ভাবনের স্বীকৃতি পাচ্ছেন ববি শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পাল Logo পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমিরুল Logo প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সড়কের ইট Logo যোহরের নামাজের মধ্য দিয়ে কবি নজরুল কলেজের নতুন মসজিদের যাত্রা শুরু Logo ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মসজিদের জুতা চুরি, চুল কেটে দিল জনতা Logo যুবদলের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক হলেন এড. মুর্তজা আল কামাল Logo লাইকা-পাওয়ারড ট্রিপল ক্যামেরার ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘শাওমি ১৭টি’

কৃত্রিম হাত ও প্রতিরক্ষা মিসাইল উদ্ভাবনের স্বীকৃতি পাচ্ছেন ববি শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পাল

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পাল তাঁর উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রকল্পের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি তিনি একটি রোবোটিক কৃত্রিম হাত (Robotic Prosthetic Hand) এবং ‘থান্ডারবোল্ট’ নামের একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিভিত্তিক মডেল তৈরি করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন। তাঁর এসব উদ্ভাবনী উদ্যোগ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষণামহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ সুজনকে তাঁর উদ্ভাবনের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তাঁর গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় একাডেমিক, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্যোগ নেবে বলে জানান।

সীমিত ল্যাব সুবিধা ও অবকাঠামোর মধ্যেও নিজস্ব আগ্রহ, গবেষণাচিন্তা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে সুজন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্পে কাজ করে আসছেন। তাঁর সাম্প্রতিক উদ্ভাবনগুলো গণমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। পরবর্তীতে তাঁকে উৎসাহিত করতে এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দিতে প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সুজন চন্দ্র পাল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু উদ্ভাবনের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।”

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “সুজন আমাদের বিভাগের একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ উদ্যোগ গবেষণামুখী পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের প্রযুক্তি গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, “সুজন চন্দ্র পালের উদ্ভাবনী কাজ প্রশংসার দাবিদার। বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও নেওয়া হবে, যাতে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখতে পারেন।”

উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রহিমা নাসরিন, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক ড. সোনিয়া খান সনি উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুজন চন্দ্র পালের এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বীকৃতি ও সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাচর্চার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করবে।

জনপ্রিয়

বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার পণ্য আত্মসাৎ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কৃত্রিম হাত ও প্রতিরক্ষা মিসাইল উদ্ভাবনের স্বীকৃতি পাচ্ছেন ববি শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পাল

প্রকাশিত ০৯:১৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পাল তাঁর উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রকল্পের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি তিনি একটি রোবোটিক কৃত্রিম হাত (Robotic Prosthetic Hand) এবং ‘থান্ডারবোল্ট’ নামের একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিভিত্তিক মডেল তৈরি করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন। তাঁর এসব উদ্ভাবনী উদ্যোগ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষণামহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ সুজনকে তাঁর উদ্ভাবনের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তাঁর গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় একাডেমিক, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্যোগ নেবে বলে জানান।

সীমিত ল্যাব সুবিধা ও অবকাঠামোর মধ্যেও নিজস্ব আগ্রহ, গবেষণাচিন্তা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে সুজন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্পে কাজ করে আসছেন। তাঁর সাম্প্রতিক উদ্ভাবনগুলো গণমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। পরবর্তীতে তাঁকে উৎসাহিত করতে এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দিতে প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সুজন চন্দ্র পাল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু উদ্ভাবনের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।”

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “সুজন আমাদের বিভাগের একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ উদ্যোগ গবেষণামুখী পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের প্রযুক্তি গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, “সুজন চন্দ্র পালের উদ্ভাবনী কাজ প্রশংসার দাবিদার। বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও নেওয়া হবে, যাতে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখতে পারেন।”

উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রহিমা নাসরিন, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক ড. সোনিয়া খান সনি উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুজন চন্দ্র পালের এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বীকৃতি ও সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাচর্চার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করবে।