ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, সাইবার অপরাধ এবং মামলা-অভিযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও আইনি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সম্মানিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মনগড়া ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছিলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। এই অপরাধের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানা বিএনপির নেতা সাইদুর রহমান মিঠু অভিযোগ করে বলেন, “২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় মো. শহিদুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি আসামি হন। ওই মামলায় গত ৫ মার্চ (২০২৬) পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে।” এছাড়া ফরিদপুরের বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন (দ্রুত বিচার) আদালতে সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীসহ ১০৫ জনের বিরুদ্ধে চলমান ৮২ নম্বর মামলাতেও শহিদুল ইসলামের নাম রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, শহিদুল দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন।
অপরদিকে, বিশিষ্ট সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক দাবি করেন, শহিদুল ইসলাম বর্তমানে দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদরদপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অসংখ্য ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিল করে হয়রানি করছেন। একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রায় ৯ হাজার নেতাকর্মী সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন, যার মধ্যে শহিদুল অন্যতম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রচারণার শিকার ভাঙ্গার সরকারি কাজী মাহবুবউল্লাহ (কেএম) কলেজের অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ মৃধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত তিন বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতা মো. শহিদুল ইসলাম আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে আসছেন। তাঁর এসব নোংরা কর্মকাণ্ডের জেরে তিনি নিজেও একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন এবং পূর্বে কারাগারেও ছিলেন।”
একই ধরনের হয়রানির শিকার মাগুরা সদর হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মহাসিন ফকির জানান, তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে তিনি ভাঙ্গা থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ও রাজনৈতিক প্রভাব খাতিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিচরিত্র হনন এবং মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করাই এই নেতার মূল কাজ। অবিলম্বে সাইবার অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আব্দুস সালাম মোল্লা/ফরিদপুর




























