ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রাষ্ট্রপতির সাথে বিদায়ি নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo অচল কম্পিউটারে চলছে পাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ল্যাব, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা Logo ঘোষণায় সীমাবদ্ধ ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’, দুই বছরেও শুরু হয়নি কাজ Logo জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণে নোবিপ্রবি শিবিরের ভিডিও কনটেস্ট আয়োজন Logo ফিড ব্যালেন্সিং ও পুষ্টি নিয়ে বাকৃবিতে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালা Logo ফুটবল উন্মাদনায় দেশের বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে শাওমি স্মার্ট টিভি Logo এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াচ্ছে টিকটক Logo পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে উল্লাস-শামীম Logo পাবিপ্রবিতে গবেষনায় জোর দিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বছরে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার প্রণোদনা Logo হাবিপ্রবিতে পরিবহন সংকট নিরসনে ৪ দফা দাবি ছাত্রদলের

২১ বছর নিখোঁজ থাকার পর জীবিত ফিরলেন রতন! ওদিকে মারা গেছেন বাবা

উন্নত জীবনের আশায় ২১ বছর আগে ঘর ছেড়েছিলেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রতন মৃধা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দীর্ঘ ১০ বছর কাটাতে হয়েছে মালয়েশিয়ার অন্ধকার কারাগারে। অবশেষে সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শনিবার রাতে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে নিজ উপজেলা কচুয়ার মঘিয়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের বাড়িতে ফিরলে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। তবে দীর্ঘ দুই দশক পর রতন জীবিত ফিরলেও, ততদিনে ছেলের ফেরার পথ চেয়ে থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন তার বাবা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২১ বছর আগে রতন মৃধাকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন তার বাবা নারায়ণ চন্দ্র মৃধা ও বড় ভাই নীলরতন মৃধা। পরিবারের সর্বস্ব ব্যয় করে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ মেলেনি। একপর্যায়ে রতনের বাবা মারা যান। দীর্ঘদিন পর বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, রতন মালয়েশিয়ার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সেখানে টানা ১০ বছর বন্দিজীবন কাটানোর পর সরকারি উদ্যোগে অবশেষে তিনি দেশে ফেরার সুযোগ পান।

স্থানীয় বাসিন্দা জোবায়ের রানা জানান, রতনের বন্দিত্বের বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি সহযোগিতায় তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

ছেলের ফিরে আসায় অশ্রুসিক্ত চোখে রতনের মা পুষ্প মৃধা বলেন, “বছরের পর বছর ছেলের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থেকেছি। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমি অনেক খুশি। আমাদের ঘরে আর দীর্ঘশ্বাস নেই।” দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর রতনের এই ঘরে ফেরার ঘটনায় আন্ধারমানিক গ্রামে যেমন আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি বাবার অনুপস্থিতি সবাইকে কাঁদিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা রতনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জনপ্রিয়

রাষ্ট্রপতির সাথে বিদায়ি নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

২১ বছর নিখোঁজ থাকার পর জীবিত ফিরলেন রতন! ওদিকে মারা গেছেন বাবা

প্রকাশিত ০৬:০৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

উন্নত জীবনের আশায় ২১ বছর আগে ঘর ছেড়েছিলেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রতন মৃধা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দীর্ঘ ১০ বছর কাটাতে হয়েছে মালয়েশিয়ার অন্ধকার কারাগারে। অবশেষে সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শনিবার রাতে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে নিজ উপজেলা কচুয়ার মঘিয়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের বাড়িতে ফিরলে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। তবে দীর্ঘ দুই দশক পর রতন জীবিত ফিরলেও, ততদিনে ছেলের ফেরার পথ চেয়ে থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন তার বাবা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২১ বছর আগে রতন মৃধাকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন তার বাবা নারায়ণ চন্দ্র মৃধা ও বড় ভাই নীলরতন মৃধা। পরিবারের সর্বস্ব ব্যয় করে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ মেলেনি। একপর্যায়ে রতনের বাবা মারা যান। দীর্ঘদিন পর বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, রতন মালয়েশিয়ার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সেখানে টানা ১০ বছর বন্দিজীবন কাটানোর পর সরকারি উদ্যোগে অবশেষে তিনি দেশে ফেরার সুযোগ পান।

স্থানীয় বাসিন্দা জোবায়ের রানা জানান, রতনের বন্দিত্বের বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি সহযোগিতায় তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

ছেলের ফিরে আসায় অশ্রুসিক্ত চোখে রতনের মা পুষ্প মৃধা বলেন, “বছরের পর বছর ছেলের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থেকেছি। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমি অনেক খুশি। আমাদের ঘরে আর দীর্ঘশ্বাস নেই।” দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর রতনের এই ঘরে ফেরার ঘটনায় আন্ধারমানিক গ্রামে যেমন আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি বাবার অনুপস্থিতি সবাইকে কাঁদিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা রতনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।