ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাবিতে চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল আনন্দশালার ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত Logo ইউক্রেনে শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়, আলোচনার আড়ালে বাড়ছে সংঘাতের শঙ্কা Logo এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব: ব্যবসায়ীদের কমিশন বৃদ্ধির গণশুনানি Logo শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন শিবা শানু Logo পর্যটন বাড়াতে হিমালয় ও বঙ্গোপসাগরকে ‘মেলাতে চান’ নেপালের রাষ্ট্রদূত Logo দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এসসিও বৈঠকে পাকিস্তানকে ডাকল ভারত Logo ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতা Logo কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের দ্বারস্থ শেখ হাসিনা Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সহযোগিতা স্মারক সই Logo বিশ্বজয়ের সাফল্য, ইন্ডাস্ট্রির হতাশা নিয়ে ‘স্টার স্টোরিজ’-এ মনোজ প্রামাণিক

২১ বছর নিখোঁজ থাকার পর জীবিত ফিরলেন রতন! ওদিকে মারা গেছেন বাবা

উন্নত জীবনের আশায় ২১ বছর আগে ঘর ছেড়েছিলেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রতন মৃধা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দীর্ঘ ১০ বছর কাটাতে হয়েছে মালয়েশিয়ার অন্ধকার কারাগারে। অবশেষে সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শনিবার রাতে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে নিজ উপজেলা কচুয়ার মঘিয়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের বাড়িতে ফিরলে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। তবে দীর্ঘ দুই দশক পর রতন জীবিত ফিরলেও, ততদিনে ছেলের ফেরার পথ চেয়ে থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন তার বাবা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২১ বছর আগে রতন মৃধাকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন তার বাবা নারায়ণ চন্দ্র মৃধা ও বড় ভাই নীলরতন মৃধা। পরিবারের সর্বস্ব ব্যয় করে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ মেলেনি। একপর্যায়ে রতনের বাবা মারা যান। দীর্ঘদিন পর বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, রতন মালয়েশিয়ার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সেখানে টানা ১০ বছর বন্দিজীবন কাটানোর পর সরকারি উদ্যোগে অবশেষে তিনি দেশে ফেরার সুযোগ পান।

স্থানীয় বাসিন্দা জোবায়ের রানা জানান, রতনের বন্দিত্বের বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি সহযোগিতায় তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

ছেলের ফিরে আসায় অশ্রুসিক্ত চোখে রতনের মা পুষ্প মৃধা বলেন, “বছরের পর বছর ছেলের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থেকেছি। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমি অনেক খুশি। আমাদের ঘরে আর দীর্ঘশ্বাস নেই।” দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর রতনের এই ঘরে ফেরার ঘটনায় আন্ধারমানিক গ্রামে যেমন আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি বাবার অনুপস্থিতি সবাইকে কাঁদিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা রতনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জনপ্রিয়

জাবিতে চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল আনন্দশালার ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

২১ বছর নিখোঁজ থাকার পর জীবিত ফিরলেন রতন! ওদিকে মারা গেছেন বাবা

প্রকাশিত ০৬:০৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

উন্নত জীবনের আশায় ২১ বছর আগে ঘর ছেড়েছিলেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রতন মৃধা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দীর্ঘ ১০ বছর কাটাতে হয়েছে মালয়েশিয়ার অন্ধকার কারাগারে। অবশেষে সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শনিবার রাতে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে নিজ উপজেলা কচুয়ার মঘিয়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের বাড়িতে ফিরলে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। তবে দীর্ঘ দুই দশক পর রতন জীবিত ফিরলেও, ততদিনে ছেলের ফেরার পথ চেয়ে থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন তার বাবা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২১ বছর আগে রতন মৃধাকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন তার বাবা নারায়ণ চন্দ্র মৃধা ও বড় ভাই নীলরতন মৃধা। পরিবারের সর্বস্ব ব্যয় করে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ মেলেনি। একপর্যায়ে রতনের বাবা মারা যান। দীর্ঘদিন পর বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, রতন মালয়েশিয়ার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সেখানে টানা ১০ বছর বন্দিজীবন কাটানোর পর সরকারি উদ্যোগে অবশেষে তিনি দেশে ফেরার সুযোগ পান।

স্থানীয় বাসিন্দা জোবায়ের রানা জানান, রতনের বন্দিত্বের বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি সহযোগিতায় তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

ছেলের ফিরে আসায় অশ্রুসিক্ত চোখে রতনের মা পুষ্প মৃধা বলেন, “বছরের পর বছর ছেলের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থেকেছি। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমি অনেক খুশি। আমাদের ঘরে আর দীর্ঘশ্বাস নেই।” দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর রতনের এই ঘরে ফেরার ঘটনায় আন্ধারমানিক গ্রামে যেমন আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি বাবার অনুপস্থিতি সবাইকে কাঁদিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা রতনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।