ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার Logo রাষ্ট্রপতির সাথে বিদায়ি নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo অচল কম্পিউটারে চলছে পাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ল্যাব, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা Logo ঘোষণায় সীমাবদ্ধ ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’, দুই বছরেও শুরু হয়নি কাজ Logo জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণে নোবিপ্রবি শিবিরের ভিডিও কনটেস্ট আয়োজন Logo ফিড ব্যালেন্সিং ও পুষ্টি নিয়ে বাকৃবিতে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালা Logo ফুটবল উন্মাদনায় দেশের বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে শাওমি স্মার্ট টিভি Logo এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াচ্ছে টিকটক Logo পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে উল্লাস-শামীম Logo পাবিপ্রবিতে গবেষনায় জোর দিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বছরে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার প্রণোদনা

পাবিপ্রবিতে গবেষনায় জোর দিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বছরে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার প্রণোদনা

গবেষণার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে দুই কোটি ৩৩ লাখ টাকারও বেশি অনুদান ও প্রণোদনা দিয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। উদ্ভাবনী গবেষণায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রকাশনা উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড ট্রান্সফার সেল।

‎বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কিউ১ জার্নালে ৬৩টি এবং কিউ২জার্নালে ২৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণাপত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য কিউ১ জার্নালে প্রকাশিত প্রতিটি গবেষণাপত্রে ৫০ হাজার টাকা এবং কিউ২ জার্নালে প্রকাশিত প্রতিটি গবেষণাপত্রে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ২৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

‎এ ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক রিসার্চ গ্রান্ট ফর টিচার্স কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ জন শিক্ষককে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (আরএ) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাসিক ৪ হাজার টাকা এবং মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

‎শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণা কার্যক্রম উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেশন প্রজেক্ট আহ্বান করে। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২৩ জন শিক্ষার্থীকে প্রতিজন ৫০ হাজার টাকা হিসেবে মোট ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

‎এ ছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনে উৎসাহ দিতে ৬৬ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিনিয়োগ শুধু একটি অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই আর্থিক সহায়তা এবং গবেষণা সহকারীদের (রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট) সম্মানী প্রদান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। একজন স্টুডেন্ট গবেষকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো আর্টিক্যাল প্রসেসিং চার্জ । অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি বা খণ্ডকালীন কাজ করে নিজেদের পড়াশোনা ও গবেষণার খরচ চালায়। ফলে গবেষণার সক্ষমতা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশ নিতে পারে না। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা এবং প্রকাশনার সম্মানী শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এটি যেমন গবেষণার ব্যয় বহনে সহায়তা করে, তেমনি শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করে এবং নতুন গবেষকদের গবেষণায় আরও উৎসাহিত করে।

‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড ট্রান্সফার সেলের পরিচালক ড. লোকমান আলী বলেন, ‘আমরা গবেষণার সীমিত ফান্ডকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শক্তিশালী গবেষণা-সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। গত এক বছরে গবেষণা-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করেছি এবং বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ চালুর মাধ্যমে গবেষণায় তাদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সম্মানিত শিক্ষক ও প্রিয় শিক্ষার্থীদের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।’

জনপ্রিয়

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

পাবিপ্রবিতে গবেষনায় জোর দিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বছরে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার প্রণোদনা

প্রকাশিত ০৯:৩১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

গবেষণার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে দুই কোটি ৩৩ লাখ টাকারও বেশি অনুদান ও প্রণোদনা দিয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। উদ্ভাবনী গবেষণায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রকাশনা উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড ট্রান্সফার সেল।

‎বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কিউ১ জার্নালে ৬৩টি এবং কিউ২জার্নালে ২৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণাপত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য কিউ১ জার্নালে প্রকাশিত প্রতিটি গবেষণাপত্রে ৫০ হাজার টাকা এবং কিউ২ জার্নালে প্রকাশিত প্রতিটি গবেষণাপত্রে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ২৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

‎এ ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক রিসার্চ গ্রান্ট ফর টিচার্স কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ জন শিক্ষককে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (আরএ) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাসিক ৪ হাজার টাকা এবং মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

‎শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণা কার্যক্রম উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেশন প্রজেক্ট আহ্বান করে। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২৩ জন শিক্ষার্থীকে প্রতিজন ৫০ হাজার টাকা হিসেবে মোট ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

‎এ ছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনে উৎসাহ দিতে ৬৬ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিনিয়োগ শুধু একটি অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই আর্থিক সহায়তা এবং গবেষণা সহকারীদের (রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট) সম্মানী প্রদান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। একজন স্টুডেন্ট গবেষকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো আর্টিক্যাল প্রসেসিং চার্জ । অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি বা খণ্ডকালীন কাজ করে নিজেদের পড়াশোনা ও গবেষণার খরচ চালায়। ফলে গবেষণার সক্ষমতা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশ নিতে পারে না। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা এবং প্রকাশনার সম্মানী শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এটি যেমন গবেষণার ব্যয় বহনে সহায়তা করে, তেমনি শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করে এবং নতুন গবেষকদের গবেষণায় আরও উৎসাহিত করে।

‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড ট্রান্সফার সেলের পরিচালক ড. লোকমান আলী বলেন, ‘আমরা গবেষণার সীমিত ফান্ডকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শক্তিশালী গবেষণা-সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। গত এক বছরে গবেষণা-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করেছি এবং বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ চালুর মাধ্যমে গবেষণায় তাদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সম্মানিত শিক্ষক ও প্রিয় শিক্ষার্থীদের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।’