ঢাকার আশুলিয়ায় সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা তৌহিদুর ইসলাম সানভি এবং নাজিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপহরণের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার প্রধান আসামি শাকিল (২৩) এখনো পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) আইন বিভাগের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌহিদুর ইসলাম সানভি এবং নাজিম। তৌহিদুর ইসলাম এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৬ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী আশুলিয়ার কন্ডা এলাকার বাসিন্দা ও সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। শাকিল তাদের প্রতিবেশী। অভিযোগ রয়েছে, স্কুলে যাতায়াতের সময় শাকিল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত সোমবার সকাল ৮টার দিকে মেয়েটিকে স্কুলে দিয়ে আসেন তার মা আরিফা আক্তার। পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, দুপুর ২টার দিকে স্কুল গেটের সামনে থেকে বখাটে শাকিল ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় অপহৃত ছাত্রীর মা আরিফা আক্তার বাদী হয়ে মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকার শাকিলকে প্রধান আসামি করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ জানতে পারে, এই অপহরণের ঘটনার পেছনে গবি শিক্ষার্থী ও এনসিপি নেতা তৌহিদুর ইসলাম সানভি এবং নাজিমের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা রয়েছে। এরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে সানভি ও নাজিমের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।































