ছয় গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজলভ্য করতে সরকার নিয়েছিলো একটি প্রকল্প। সেই প্রকল্পের ৮টি কালভার্টের কাজ শেষ হলেও এখনো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়নি একটি কালভার্টের। এদিকে পার হয়ে গেছে তিনটি অর্থবছর। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঠিকাদারের গাফিলতিতেই হচ্ছে না কালভার্টটি।
কালভার্টটি করা হলে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামকে যুক্ত করবে আরও ছয়টি গ্রামের সঙ্গে। কালভার্ট না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে ৬ গ্রামের মানুষ। এছাড়া, ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে ।
তথ্য উপাত্ত বলছে, রাজারহাট উপজেলার গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ মিটার দক্ষিণে ৪ দশমিক ২৬ মিটার আরসিসি কালভার্ট নির্মাণের জন্য ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু তিন অর্থবছরেও নির্মাণ হয়নি কালভার্টটি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রাজারহাট উপজেলায় ৯টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণের জন্য ১৮ মার্চ ২০২৪ তারিখে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঠিকাদার মো. নূর আলম মিয়ার সঙ্গে ২ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৮ টাকায় চুক্তি হয়। এই ৯টি সেতু/কালভার্টের মধ্যে গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ৪ দশমিক ২৬ মিটার আরসিসি কালভার্টটির বরাদ্দ ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০ টাকা।
জানা গেছে, প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ১৪ মে ২০২৪। প্রকল্প শুরুর পর ৮২০ দিন (২ বছর ২ মাস ২৯ দিন) পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। কাজটি ঠিকাদার নূর আলম মিয়ার করার কথা থাকলেও বাস্তবে সাব-ঠিকাদার আমজাদ হোসেন কাজটি করছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাব-ঠিকাদার আমজাদ হোসেন। পুরো ৯টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্প শেষ না করেই ইতোমধ্যে ১ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার ১০০ টাকা অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে কালভার্ট নির্মাণের জন্য পুরোনো কালভার্টটি ভেঙে ফেলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এরপর হঠাৎ করেই কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই কাজ বন্ধ করে চলে যান তারা। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
গতিয়াশাম গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ। আমরা কৃষক মানুষ, আমাদের জমি রাস্তার ওপারে। মেম্বার-চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম, তবুও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
স্থানীয় দিনমজুর আলম মিয়া ও ফজলু মিয়া জানান, ‘ব্রিজ নাই, এই আস্তা দিয়া ভ্যান চলবার পারি না। মেলা দূর ঘুইরা যাওয়া নাগে। হামরা দিন আনি দিন খাই। এই ব্রিজের অভাবে খুব কষ্টত আছি।’প্রকল্পের ঠিকাদার নূর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই জায়গায় বিদ্যুৎ সমস্যা, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কাজটি বিলম্ব হচ্ছে।
ঠিকাদারের সাফাই গেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই ঠিকাদার অনেক কাজ পেয়েছে, এজন্য কাজটি শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুতই কাজটি শেষ করার চেষ্টা করছি।’
এ বিষয়ে গতকাল বুধবার রাজারহাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।































