ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ২ পর্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নবীন বরণ অনুষ্ঠানে টানা ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় প্রটোকল ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করেও কোনো সম্মানী পাননি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও রোভার স্কাউটের সদস্যরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।
শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণ এই নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, ভর্তি পরীক্ষা কিংবা সমাবর্তনের মতো বড় ইভেন্টগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যদের নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্মানী দেওয়া ঐতিহ্যগত নিয়ম। তবে এবারের কেন্দ্রীয় নবীন বরণে সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের।
ভুক্তভোগী ক্যাডেটরা জানান, সম্মানীর বিষয়টি বাদ দিলেও ডিউটি শেষে ক্যাডেট ও স্কাউট সদস্যদের যে খাবার দেওয়া হয়েছিল, আধা সেদ্ধ চাল এবং গন্ধ হয়ে যাওয়া ডালের কারণে সেটাও ঠিকমতো খেতে পারেননি তারা।
ইবি রোভার স্কাউট গ্রুপ ইউনিট কাউন্সিল সভাপতি খন্দকার আবু সাঈম বলেন, “আমাদের সদস্যরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একটানা দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত বছরগুলোতে যেকোনো ডিউটিতে যে সম্মানী ছিল, এবার তা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। উপরন্তু খাবারের মান নিয়েও সদস্যরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।”
বিএনসিসি নৌ শাখার ক্যাডেট আন্ডার অফিসার (সিইউও) মুহিব্বুল্লাহ নোমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আট ঘণ্টার বেশি সময় প্রটোকল ও শৃঙ্খলার গুরুদায়িত্ব পালন করেও দিনশেষে সম্মানীটুকু পাইনি। একজন দিনমজুরের পারিশ্রমিকও এর চেয়ে ঢের বেশি হয়। বিএনসিসির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন উদাসীনতা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।”
একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেনা শাখার ক্যাডেট আন্ডার অফিসার (সিইউও) মোসাদ্দেক হোসেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনের নির্দেশনায় আমরা অতিথিদের প্রটোকল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একই দায়িত্বের জন্য মোটা অংকের সম্মানী দেওয়া হয়। প্রশাসন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে পারলেও ক্যাডেটদের বেলায় ‘স্বেচ্ছাসেবা’র দোহাই দেয়—যা অত্যন্ত হতাশাজনক।”
এদিকে সম্মানীর বিষয়ে ইবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম জানান, আগে ২০০ টাকা করে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কারও জন্যই আর্থিক সম্মানীর ব্যবস্থা ছিল না, কেবল দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
বিএনসিসির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. আব্দুল বারীও প্রশাসনের ‘অর্থনৈতিক ক্রাইসিস’-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, “তারা ভলান্টারি সার্ভিস দিচ্ছে এবং দেশসেবায় নিয়োজিত স্টুডেন্ট। তাই তাদের জন্য কেবল লাঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
তবে পুরো বিষয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আলীনূর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে প্রক্টর কিংবা সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটিতে শিক্ষামন্ত্রীর আসার কথা থাকলেও তিনি শেষ মুহূর্তে অনুপস্থিত থাকায় এমনিতেই নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ ছিল। তার ওপর নবীন ও দায়িত্বশীলদের নিম্নমানের ও পচা খাবার সরবরাহ এবং সর্বশেষ বিএনসিসি-রোভার স্কাউট সদস্যদের সম্মানী না দেওয়ার ঘটনা কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে চরম সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

























