ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় নরেন্দ্র মোদির শোক Logo শর্ত দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না, ভারত প্রসঙ্গে রিজভী Logo হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান Logo ইমাম-উলামাদের আপত্তির কারণে কিশোরগঞ্জে অ্যাশেজ ব্যান্ডের কনসার্ট স্থগিত Logo কলকাতায় হোটেলে আগুন, ৯ বাংলাদেশীর মৃত্যু Logo স্বপ্ন দিচ্ছে সাশ্রয়ের দারুণ সুযোগ Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কবি নজরুল কলেজে ছাত্র অধিকার পরিষদের আলোচনা সভা Logo বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার: নুরুল হক নুর Logo উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ‘ফরচুন গ্লোবাল ৫০০’-এ ২৩২তম শাওমি Logo তরুণদের জন্য রবির নতুন অধ্যায়

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় নরেন্দ্র মোদির শোক

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে পোস্ট করা এক্স বার্তায় লেখা হয়েছে, কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির খবর শুনে অত্যন্ত মর্মাহত। এই দুর্ঘটনায় যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতরা যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন। স্থানীয় প্রশাসন দুর্গতদের সহায়তা করছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মধ্যরাতে কলকাতা নিউ মার্কেটের কাছে ধর্মতলার মির্জা গালিব স্ট্রিটে শিখা ইন নামে এক হোটেলে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কয়েকজন অতিথি বের হতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, দুই জন মহিলা এবং একটি শিশু।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কলকাতার হোটেল শিখা ইনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয়। বাকি ৩ জনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। নিহত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

ধর্মতলার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি)। ৫ সদস্যের এই দলের নেতৃত্ব দেবেন ডিসি ডিডি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। অ্যাডিশনাল সিপি (অপরাধ দমন শাখা) কুণাল আগরওয়াল জানান, তদন্ত দল গঠনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পাঁচ তলা বিল্ডিংয়ের প্রতিটি ফ্লোরে তিন-চারটি ছোট ছোট হোটেল রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের পাশেই এই হোটেল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও এতে যোগ দেন।

দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালান। তবে ঘন ধোঁয়ার কারণে ওপরের তলায় পৌঁছাতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়। একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ৯ জনের মৃত্যু হয়।

প্রাথমিকভাবে একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ৩ মন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন– পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

এদিকে, কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে আরেকটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১৭ আগস্ট ভোরে হোটেল বিদেষিণীতে আগুনে অন্তত ৮ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হন।

পাঁচতলা ওই হোটেলের নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে। সে সময় বেশিরভাগ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। নিহতদের মধ্যে মেঘালয়ের একই পরিবারের ৫ জন সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে দুটি শিশুও ছিল।

জনপ্রিয়

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় নরেন্দ্র মোদির শোক

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় নরেন্দ্র মোদির শোক

প্রকাশিত ০৩:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে পোস্ট করা এক্স বার্তায় লেখা হয়েছে, কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির খবর শুনে অত্যন্ত মর্মাহত। এই দুর্ঘটনায় যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতরা যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন। স্থানীয় প্রশাসন দুর্গতদের সহায়তা করছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মধ্যরাতে কলকাতা নিউ মার্কেটের কাছে ধর্মতলার মির্জা গালিব স্ট্রিটে শিখা ইন নামে এক হোটেলে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কয়েকজন অতিথি বের হতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, দুই জন মহিলা এবং একটি শিশু।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কলকাতার হোটেল শিখা ইনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয়। বাকি ৩ জনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। নিহত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

ধর্মতলার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি)। ৫ সদস্যের এই দলের নেতৃত্ব দেবেন ডিসি ডিডি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। অ্যাডিশনাল সিপি (অপরাধ দমন শাখা) কুণাল আগরওয়াল জানান, তদন্ত দল গঠনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পাঁচ তলা বিল্ডিংয়ের প্রতিটি ফ্লোরে তিন-চারটি ছোট ছোট হোটেল রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের পাশেই এই হোটেল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও এতে যোগ দেন।

দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালান। তবে ঘন ধোঁয়ার কারণে ওপরের তলায় পৌঁছাতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়। একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ৯ জনের মৃত্যু হয়।

প্রাথমিকভাবে একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ৩ মন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন– পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

এদিকে, কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে আরেকটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১৭ আগস্ট ভোরে হোটেল বিদেষিণীতে আগুনে অন্তত ৮ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হন।

পাঁচতলা ওই হোটেলের নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে। সে সময় বেশিরভাগ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। নিহতদের মধ্যে মেঘালয়ের একই পরিবারের ৫ জন সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে দুটি শিশুও ছিল।