দেশকে রক্ষা করার কঠিন সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কখনোই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তিনি তৎকালীন পরিস্থিতিতে বিদেশে পাড়ি না জমিয়ে এই মাতৃভূমিকেই নিজের জীবনের একমাত্র স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত একটি বিশেষ সাহিত্য আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এই মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের লেখা ‘শুধু মাধবীর জন্য’ শীর্ষক নতুন গ্রন্থ প্রকাশের উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ আরও উল্লেখ করেন যে, লেখক তার বইয়ের পাতায় বাংলাদেশ এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষার যে গভীর আকুতি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা যেন আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকে। তিনি লেখকের সাহিত্যিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও সংকটে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে নিজের লেখালেখির পেছনের প্রেরণা ও অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন যে, তিনি মূলত খ্যাতিমান কোনো লেখক হওয়ার বাসনা থেকে কলম ধরেননি। নিজের অন্তরের দহন, প্রতিদিনের মানসিক যন্ত্রণা, দুঃখ, ভালোলাগা, উপেক্ষা এবং নানা অবহেলার কষ্ট যখন তার সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যেত, ঠিক তখনই তিনি মনের তাগিদে এসব লিখে রাখেন। বইটিতে থাকা মাধবী চরিত্রটি কাল্পনিক হলেও এর ভেতরে লেখকের জীবনের বাস্তব আবেগ ও অনুভূতির নিখুঁত প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।
উক্ত সাহিত্য অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। বইটির ভূয়সী প্রশংসা করে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন যে, একজন পেশাদার রাজনীতিবিদ হয়েও আইনমন্ত্রীর এই গ্রন্থটি যেভাবে সাধারণ পাঠক সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তা সাম্প্রতিককালে অন্য কোনো লেখকের বইয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। অনুষ্ঠানটিতে প্রধান আলোচক, বিশেষ অতিথিবৃন্দ এবং অন্যান্য সাহিত্যিকদের বক্তব্যের পাশাপাশি জাতীয় সংগীত, পুঁথি পাঠ, কবিতা আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজনটি এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নেয়।



































