ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি নতুন প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাঠ পর্যায়ে একই কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এমন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তালিকা প্রস্তুত করে তা পর্যায়ক্রমে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করা হয়, যা মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এই আদেশে স্বাক্ষর করেছেন এবং এটি অবিলম্বে বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মতে, ভূমি সেবা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল খাত। দীর্ঘদিন একই স্থানে কর্মরত থাকলে সেখানে নানা ধরনের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও স্থানীয় স্বার্থের জাল তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা অনেক সময় অফিসের কার্যক্রমে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে এবং সেবাগ্রহীতাদের সঠিক ও হয়রানিমুক্ত সেবা উপহার দিতে নিয়মিত বিরতিতে কর্মকর্তা বদল বা রোটেশনের বিকল্প নেই। পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে হলে নিয়মিত পদায়নের মাধ্যমে কর্মস্থলে গতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার মাঠ পর্যায়ের সকল ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করবেন। এই তালিকায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নাম, পদমর্যাদা, বর্তমান কর্মস্থলের বিবরণ, সেখানে যোগদানের সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং কাজের মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। যাদের চাকরির বয়স একই স্থানে তিন বছর বা তার বেশি হয়েছে, তাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপে অন্যত্র বদলি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তবে এই বদলি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে শুধু তিন বছর পূর্তির বিষয়টিই একমাত্র মানদণ্ড নয় বলে পরিপত্রে জানানো হয়েছে। কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রশাসনিক প্রয়োজন, জনস্বার্থ রক্ষা, শৃঙ্খলা রক্ষা কিংবা বিশেষ কোনো যৌক্তিক কারণে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি তাকে বদলি করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় সেই ব্যবস্থা নিতে পারবে। সার্বিক এই নির্দেশনাটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




































