ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ইবিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন’ কর্মশালা: গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির ডাটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্ত Logo হালকা রংয়ের ঘরে আভিজাত্যের ছোঁয়া দেওয়ার কৌশল Logo দেশ গঠনে প্রতিটি প্রবাসীকে ‘অ্যাম্বাসেডর’ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo মালয়েশিয়ায় হুন্ডি চক্রের সন্ধান, ৮ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার Logo জাতীয় সাঁতারে প্রথম দিনে ৬ রেকর্ড Logo আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে হবে: শিক্ষামন্ত্রী Logo স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি Logo নির্বাচনের পরও অনিশ্চয়তা, ফের ভোটের পথে ইসরাইল? Logo অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকার রাখতে হবে: জাতিসংঘে আইরিন খান Logo ব্যর্থতাই কি সফলতার আসল চাবিকাঠি?

এসএসসিতে মাত্র এক বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর জিপিএ ৪.৯৪, তদন্তে কমিটি

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। খাতার মূল নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের চরম অমিল খুঁজে পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের ওই শিক্ষার্থী মূলত মাত্র একটি বিষয়ে পাস করলেও তাকে জিপিএ ৪.৯৪ দিয়ে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছিল। এই গুরুতর জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উন্মোচনে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৫ আগস্ট যখন ফল পুনঃনিরীক্ষণের কাজ চলছিল। সে সময় পদার্থবিজ্ঞানের একটি উত্তরপত্র যাচাই করতে গিয়ে একজন পরীক্ষক দেখতে পান যে খাতায় শিক্ষার্থী শূন্য পেলেও ডাটাবেজে তাকে ৪৫ নম্বর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের নজরে আনা হলে তিনি কম্পিউটার সেন্টারের তথ্যের সঙ্গে খাতার নম্বর মিলিয়ে অসঙ্গতি নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিষয়টি লিখিতভাবে বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী মূলত একাধিক বিষয়ে ফেল করলেও কম্পিউটার ডাটা ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে তাকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রকাশিত ফলাফলে তাকে বাংলায় এ মাইনাস, রসায়নে এ এবং আইসিটিতে এ গ্রেড দেখানোসহ অন্যান্য বিষয়ে এ প্লাস দেওয়া হয়। এমনকি সৃজনশীল খাতার প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গেও ফলাফলের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীর পরিবার দাবি করেছে যে তারা ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে কোনো পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেননি, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও বেশি রহস্যজনক করে তুলেছে।

জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ফলাফল চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের মূল সার্ভার থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যাতে সে কোনোভাবেই একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে না পারে। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইআইএন নম্বর কিংবা ব্যক্তিগত রোল নম্বর দিয়েও সার্ভারে ওই শিক্ষার্থীর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত কমিটির ওপর সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং রিপোর্ট হাতে পেলেই এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

ইবিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন’ কর্মশালা: গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির ডাটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্ত

এসএসসিতে মাত্র এক বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর জিপিএ ৪.৯৪, তদন্তে কমিটি

প্রকাশিত ০৮:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। খাতার মূল নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের চরম অমিল খুঁজে পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের ওই শিক্ষার্থী মূলত মাত্র একটি বিষয়ে পাস করলেও তাকে জিপিএ ৪.৯৪ দিয়ে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছিল। এই গুরুতর জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উন্মোচনে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৫ আগস্ট যখন ফল পুনঃনিরীক্ষণের কাজ চলছিল। সে সময় পদার্থবিজ্ঞানের একটি উত্তরপত্র যাচাই করতে গিয়ে একজন পরীক্ষক দেখতে পান যে খাতায় শিক্ষার্থী শূন্য পেলেও ডাটাবেজে তাকে ৪৫ নম্বর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের নজরে আনা হলে তিনি কম্পিউটার সেন্টারের তথ্যের সঙ্গে খাতার নম্বর মিলিয়ে অসঙ্গতি নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিষয়টি লিখিতভাবে বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী মূলত একাধিক বিষয়ে ফেল করলেও কম্পিউটার ডাটা ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে তাকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রকাশিত ফলাফলে তাকে বাংলায় এ মাইনাস, রসায়নে এ এবং আইসিটিতে এ গ্রেড দেখানোসহ অন্যান্য বিষয়ে এ প্লাস দেওয়া হয়। এমনকি সৃজনশীল খাতার প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গেও ফলাফলের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীর পরিবার দাবি করেছে যে তারা ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে কোনো পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেননি, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও বেশি রহস্যজনক করে তুলেছে।

জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ফলাফল চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের মূল সার্ভার থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যাতে সে কোনোভাবেই একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে না পারে। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইআইএন নম্বর কিংবা ব্যক্তিগত রোল নম্বর দিয়েও সার্ভারে ওই শিক্ষার্থীর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত কমিটির ওপর সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং রিপোর্ট হাতে পেলেই এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।