গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত এ মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে শিক্ষার্থীদের তৈরি তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি। অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে প্রদর্শিত তিনটি প্রকল্পই কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উদ্ভাবন। এর মধ্যে শাকিরুল ইসলামের তৈরি স্মার্ট হুইলচেয়ার মুখের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে চলতে সক্ষম। হাত-পা অচল হলেও মুখের নড়াচড়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর স্বনির্ভর চলাচল নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।
রায়হান হোসেন রিফাতের উদ্ভাবিত ‘যুক্তি’ একটি বাংলাভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা, যা প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় প্রোগ্রামিং শেখার সুযোগ করে দেবে। অন্যদিকে, জাহিদুর রহমানের ‘আমার প্রশ্ন’ (Amar Prosno) একটি প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, ওএমআর এবং ওএমআর প্রক্রিয়াকরণসহ ভর্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের সমন্বয় করছেন ফোকাল পয়েন্ট ড. মাহমুদুল হাছান এবং সহ-ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইসিটি সেলের পরিচালক ড. মেহেদী হাসান।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. এম. শরীফুল করীম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের ফোকাল পয়েন্ট ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. মাহমুদুল হাছান বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে আমরা তিনটি প্রজেক্ট প্রদর্শন করছি। মেলায় আগত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মাঝে আমাদের এই উদ্ভাবনগুলো বেশ আলোড়ন তুলেছে। তারা গবেষণাগুলোর কার্যকারিতা ও বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরি করার সময় সেটি দেশের কোনো বাস্তব সমস্যার সমাধান করছে কি না, তা বিবেচনায় রাখা উচিত। একই সঙ্গে এসব প্রকল্প শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগও সৃষ্টি করে।”
উল্লেখ্য, ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর নভোথিয়েটারে চলবে।
































