বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে নানা ঘটনা, যার মধ্যে এবার যুক্ত হয়েছে ‘ছাগল’ কেন্দ্র করে নতুন এক বিতর্ক। সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একটি ছাগল জবাই করে খাওয়ার অভিযোগ এবং তা নিয়ে নানামুখী পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের জেরে বেশ শোরগোল শুরু হয়েছে। এর আগে বিগত বছরগুলোতেও হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিদের ছাগল নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য দেশজুড়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিশেষ করে তৎকালীন সময়ের একটি বহুল আলোচিত ছাগলকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই বর্তমান এই নতুন বিতর্ক রাজনৈতিক মহলে বেশ ভালোভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি টকশোর ভিডিও ক্লিপে মূলত এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সূত্রপাত ঘটে। সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে বলতে শোনা যায় যে, তার মেয়ের অত্যন্ত আদরের ও লালন-পালন করা একটি ছাগল এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন মিলে জবাই করে খেয়ে ফেলেছেন। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সুরে জানান যে, তার শিশুকন্যা এখনও প্রিয় ছাগলটিকে খুঁজে বেড়ায় এবং সে এখনও জানেই না যে তার সাধের ছাগলটিকে কেটে খাওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর তার মেয়ে মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েছিল এবং তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছুটা সময় পার করতে হয়েছে।
তবে আসিফ নজরুলের এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ বিপরীত সুর শোনা গেছে অভিযুক্ত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গলায়। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন যে, আসিফ নজরুলের আসলে একটি নয় বরং দুটি ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল এবং একটি ছাগল রক্ষা পাওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্টদের তীব্র ধিক্কার জানান। শুধু তাই নয়, সাবেক এই উপদেষ্টার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন যে আসিফ নজরুল শিক্ষক হিসেবে ভালো মানুষ হলেও সার্বিকভাবে তিনি খুব ভালো মানুষ নন এবং জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় করা প্রতিশ্রুতিগুলো তিনি রক্ষা করেননি। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ওই সময় গবাদিপশু পালনের পাশাপাশি সেগুলোর সুরক্ষায় সেখানে পুলিশ পাহারা পর্যন্ত মোতায়েন করা হতো।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিভিন্ন সময়ে নানা বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জন্য প্রায়ই আলোচনার শিরোনামে থাকেন। সম্প্রতি একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি চড়ে দলীয় লংমার্চে অংশ নেওয়ার কারণেও তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ে পরাজিত হওয়া এই নেতা সম্প্রতি সেই একই নির্বাচনী এলাকার ভোটার হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক মাঠে বিভিন্ন ইস্যু ও কথার লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ছাগল খাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের এমন প্রকাশ্য মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি জমে উঠেছে।





































