ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo চমকপ্রদ যাত্রায় লঁসের জালে ৯ গোল দিয়ে কোমোর রেকর্ড Logo উত্তরায় উচ্ছেদ অভিযানে ‘ঘুষ নেওয়ার’ অভিযোগ তুলে ম্যাজিস্ট্রেটকে হেনস্তা Logo চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয়ে ফিরল আর্সেনাল Logo কংগ্রেসে ক্ষমতা হারিয়ে ‘খোঁড়া হাঁস’, ভিটো ক্ষমতা দিয়ে কতদূর যেতে পারবেন ট্রাম্প? Logo ৫ গোলের লড়াইয়ে লাইপজিগের মাঠে সিটির কষ্টার্জিত জয় Logo দুইবার পিছিয়ে পড়েও লিভারপুলকে হারিয়ে ফেনেরবাচের চমক Logo তরঙ্গ নিলামের আগে আলোচনা চায় মোবাইল অপারেটররা Logo শেষ মুহূর্তে ভালভের্দের দর্শনীয় গোলে রেয়াল মাদ্রিদের জয় Logo নয় মাসে সিটি ব্যাংকের ইপিএস বেড়ে ৪ দশমিক ৯৬ টাকা Logo ট্রাম্পের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা, ডেমোক্র্যাটদের সামনেও পরীক্ষা

নিখোঁজের ৭ দিন পর শিশুর বস্তাবন্দি টুকরো মরদেহ উদ্ধার

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নে নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর কামরুন্নাহার কলি নামের এক শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ১০ বছর বয়সী ওই শিশুর মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কলি স্থানীয় কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে ছিল এবং তার আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে গিয়েছিল শিশু কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে সে বাজার সদাই মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির বাইরে যায় এবং এরপর থেকেই সে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে পড়ে। অনেক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় দুইশ গজ দূরে শিশুটির ব্যবহৃত স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তার খোঁজ চেয়ে আকুতি জানান।

প্রিয় সন্তানকে ফিরে পেতে ও নিখোঁজের ঘটনার সুরাহা করতে পরিবার এবং স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছিল। ঘটনার পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরে শিশুটির সন্ধান ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন তার স্বজন ও সহপাঠীরা। এর মাত্র একদিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির টুকরো মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বস্তা খুলে মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক জানান যে, সেদিন সন্ধ্যায় মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তারা সম্ভাব্য সব স্থানে পাগলের মতো খুঁজেছেন কিন্তু পাননি। তিনি তার অবুঝ সন্তানকে যারা এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচন করতে জোরেশোরে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

চমকপ্রদ যাত্রায় লঁসের জালে ৯ গোল দিয়ে কোমোর রেকর্ড

নিখোঁজের ৭ দিন পর শিশুর বস্তাবন্দি টুকরো মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত ০৯:৪৬:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নে নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর কামরুন্নাহার কলি নামের এক শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ১০ বছর বয়সী ওই শিশুর মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কলি স্থানীয় কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে ছিল এবং তার আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে গিয়েছিল শিশু কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে সে বাজার সদাই মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির বাইরে যায় এবং এরপর থেকেই সে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে পড়ে। অনেক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় দুইশ গজ দূরে শিশুটির ব্যবহৃত স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তার খোঁজ চেয়ে আকুতি জানান।

প্রিয় সন্তানকে ফিরে পেতে ও নিখোঁজের ঘটনার সুরাহা করতে পরিবার এবং স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছিল। ঘটনার পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরে শিশুটির সন্ধান ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন তার স্বজন ও সহপাঠীরা। এর মাত্র একদিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির টুকরো মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বস্তা খুলে মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক জানান যে, সেদিন সন্ধ্যায় মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তারা সম্ভাব্য সব স্থানে পাগলের মতো খুঁজেছেন কিন্তু পাননি। তিনি তার অবুঝ সন্তানকে যারা এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচন করতে জোরেশোরে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।