অপরাধ ডেস্ক: গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশু যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবককে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করে। মামলার আইনজীবী বেল্লাল হোসাইন সংবাদমাধ্যমকে এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট আদালতে তার মক্কেলকে আত্মসমর্পণ করানো হবে। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন বেশ কয়েকজন আইনজীবী। গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর কুরআতুল কুরআন মাদ্রাসায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সাত বছর বয়সি এক শিশুকে যৌন হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন ওই অভিভাবক। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি মাদ্রাসায় প্রবেশ করে এক শিক্ষককে চড় মারেন এবং এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। এই ঘটনার জের ধরে গত ২৪ অক্টোবর মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমাস হোসেন বাদী হয়ে পাল্টা একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বহিরাগতদের নিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ, শিক্ষককে মারধর, অফিসকক্ষ ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় ওই অভিভাবক ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা বেআইনিভাবে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা অফিস কক্ষের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ২০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করে। বাধা দিতে গেলে শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের মাথায় আঘাত করা হয় এবং উপাধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষকদের ওপরও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় নারী শিক্ষকদের শ্লীলতাহানি ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগও ওঠে। এছাড়া জমি ক্রয়ের জন্য ড্রয়ারে সংরক্ষিত নগদ ১৭ লাখ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। যাওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর ও ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপ নিলে মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী শুনানিতে দাবি করেন যে, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি মাদ্রাসায় নগদ এত পরিমাণ টাকা থাকার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ এবং এটি একটি মিথ্যা অভিযোগ হতে পারে। এমন যুক্তির ভিত্তিতে তারা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত জামিন মঞ্জুর না করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে। শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ও মাদ্রাসায় হামলার এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।






































