ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo টেনেসিতে ২০০ বছর পর এই প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড হতে যাচ্ছে Logo ৬০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন Logo ৪৪ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল কিশোরীর লুকিয়ে রাখা চিঠি Logo সাপের কামড়ে আইসিইউতে রাবি শিক্ষার্থী, প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও Logo ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি Logo পুলিশ দেখে কেক ও মোটরসাইকেল ফেলে পালালেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা Logo ধর্ষণের অভিযোগে পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র আন্দোলন, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকের পিঠে উঠে গেলেন শিক্ষার্থীরা Logo কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভিডিওতে দেখান বিপুল টাকা-পয়সা, একরাতেই চুরি হলো ১২০ ভরি গয়না Logo একজন শিক্ষকের চোখে বাংলাদেশের সেরা ১০ পর্যটন স্পট Logo পানিতে ডুবে গেছে ব্যাংকক, দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভিডিওতে দেখান বিপুল টাকা-পয়সা, একরাতেই চুরি হলো ১২০ ভরি গয়না

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও সম্পদের প্রদর্শনী আজকাল বহু মানুষের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে। সম্প্রতি ভারতের কন্যাকুমারী জেলার নাগেরকয়েল এলাকায় এমনই এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী নারী মধুমিতা সামাজিক মাধ্যমে বেশ পরিচিত একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং তাঁর সাড়ে চার লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে। নিজের অনলাইন অ্যাকাউন্টে তিনি প্রায়ই বিপুল পরিমাণ সোনা, হীরা ও নগদ টাকা দেখিয়ে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতেন। এই অতিরিক্ত প্রসাধন ও প্রচারই শেষ পর্যন্ত চোরদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে তাঁকে।

পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মধুমিতার পরিবারের সদস্যরা কিছু কেনাকাটার জন্য বাসা থেকে বাইরে গিয়েছিলেন। এই সুবর্ণ সুযোগটিকেই কাজে লাগায় দুর্বৃত্তরা এবং ভিআইপি গার্ডেন এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। পরিবারের লোকজন বাড়ি ফিরে দেখতে পান যে ঘরের লকার ভাঙা এবং ভেতরে থাকা সব মূল্যবান জিনিসপত্র উধাও। চোরেরা অত্যন্ত সুকৌশলে পুরো বাসা থেকে প্রায় ১২০ ভরি সোনা ও হীরার গয়না ছাড়াও নগদ অর্থ লুটে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া এই সম্পত্তির আর্থিক মূল্য প্রায় এক কোটি রুপি ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকেই তদন্তে নেমে পুলিশ অবাক হয়েছে মধুমিতার অনলাইন কার্যক্রমের ধরণ দেখে। অতীতে তাঁর বিভিন্ন রিল ও পোস্টে মূল্যবান সম্পদ কীভাবে নিরাপদে রাখতে হয়, সে বিষয়ে বড়াই করতে দেখা গেছে। এমনকি সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক শিশুর গায়ে তিনি বেশ কিছু নগদ টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এই ধরনের ভিডিও এবং নিয়মিত বিলাসবহুল জীবনযাত্রার প্রদর্শনই অপরাধীদের তাঁর বাসা সম্পর্কে সব তথ্য পেতে সহায়তা করেছিল কি না, তা এখন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এই পোস্ট ও রিলগুলোই এখন এই চাঞ্চল্যকর মামলার মূল তদন্তের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল কিংবা অনলাইনে দেওয়া তথ্য থেকেই চুরির পরিকল্পনা সাজিয়েছিল—এমন নানা দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই বড় চুরির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে এবং লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধার করতে এরই মধ্যে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

টেনেসিতে ২০০ বছর পর এই প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড হতে যাচ্ছে

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভিডিওতে দেখান বিপুল টাকা-পয়সা, একরাতেই চুরি হলো ১২০ ভরি গয়না

প্রকাশিত ০৪:০০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও সম্পদের প্রদর্শনী আজকাল বহু মানুষের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে। সম্প্রতি ভারতের কন্যাকুমারী জেলার নাগেরকয়েল এলাকায় এমনই এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী নারী মধুমিতা সামাজিক মাধ্যমে বেশ পরিচিত একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং তাঁর সাড়ে চার লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে। নিজের অনলাইন অ্যাকাউন্টে তিনি প্রায়ই বিপুল পরিমাণ সোনা, হীরা ও নগদ টাকা দেখিয়ে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতেন। এই অতিরিক্ত প্রসাধন ও প্রচারই শেষ পর্যন্ত চোরদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে তাঁকে।

পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মধুমিতার পরিবারের সদস্যরা কিছু কেনাকাটার জন্য বাসা থেকে বাইরে গিয়েছিলেন। এই সুবর্ণ সুযোগটিকেই কাজে লাগায় দুর্বৃত্তরা এবং ভিআইপি গার্ডেন এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। পরিবারের লোকজন বাড়ি ফিরে দেখতে পান যে ঘরের লকার ভাঙা এবং ভেতরে থাকা সব মূল্যবান জিনিসপত্র উধাও। চোরেরা অত্যন্ত সুকৌশলে পুরো বাসা থেকে প্রায় ১২০ ভরি সোনা ও হীরার গয়না ছাড়াও নগদ অর্থ লুটে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া এই সম্পত্তির আর্থিক মূল্য প্রায় এক কোটি রুপি ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকেই তদন্তে নেমে পুলিশ অবাক হয়েছে মধুমিতার অনলাইন কার্যক্রমের ধরণ দেখে। অতীতে তাঁর বিভিন্ন রিল ও পোস্টে মূল্যবান সম্পদ কীভাবে নিরাপদে রাখতে হয়, সে বিষয়ে বড়াই করতে দেখা গেছে। এমনকি সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক শিশুর গায়ে তিনি বেশ কিছু নগদ টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এই ধরনের ভিডিও এবং নিয়মিত বিলাসবহুল জীবনযাত্রার প্রদর্শনই অপরাধীদের তাঁর বাসা সম্পর্কে সব তথ্য পেতে সহায়তা করেছিল কি না, তা এখন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এই পোস্ট ও রিলগুলোই এখন এই চাঞ্চল্যকর মামলার মূল তদন্তের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল কিংবা অনলাইনে দেওয়া তথ্য থেকেই চুরির পরিকল্পনা সাজিয়েছিল—এমন নানা দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই বড় চুরির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে এবং লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধার করতে এরই মধ্যে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।