ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সংবিধান সংশোধনে আবার গণভোট করবে সরকার Logo ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, একদিনে সর্বোচ্চ ২১৫৮ জন ভর্তি Logo টঙ্গীতে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মা-ছেলের মৃত্যু Logo টেনেসিতে ২০০ বছর পর এই প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড হতে যাচ্ছে Logo ৬০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন Logo ৪৪ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল কিশোরীর লুকিয়ে রাখা চিঠি Logo সাপের কামড়ে আইসিইউতে রাবি শিক্ষার্থী, প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও Logo ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি Logo পুলিশ দেখে কেক ও মোটরসাইকেল ফেলে পালালেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা Logo ধর্ষণের অভিযোগে পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র আন্দোলন, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকের পিঠে উঠে গেলেন শিক্ষার্থীরা

টেনেসিতে ২০০ বছর পর এই প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড হতে যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় দুই শ বছর পর কোনো নারী বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক নামের ওই নারী প্রাণঘাতী ইনজেকশন নেওয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তবে তাঁর জীবন বাঁচাতে এবং দণ্ড মওকুফ করতে আইনজীবীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ১৯৯৫ সালে, যখন পাইকের বয়স ছিল মাত্র আঠারো বছর। ওই সময় তিনি তাঁর তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমার নামের এক তরুণকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। কিশোর-কিশোরীদের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যেখানে নির্যাতন চালিয়ে স্লেমারকে হত্যা করা হয়েছিল। এই অপরাধে পাইকের মৃত্যুদণ্ড হলেও তাঁর সহযোগীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই প্রক্রিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে পাইক কিছু বিশেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি চান না দণ্ড কার্যকরের সময় তাঁর পরিবারের কেউ সেখানে উপস্থিত থাকুক। এছাড়া, তাঁকে যে দলটি ইনজেকশন দেবে, তা যেন সম্পূর্ণ নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়—এমনটাই তাঁর প্রত্যাশা। কারাগার কর্তৃপক্ষ তাঁকে নারী রক্ষীদের মাধ্যমে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করলেও এর শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারেনি।

অন্যদিকে, নিহত কলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ অবিলম্বে এই রায় কার্যকরের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হলেই কেবল তাঁর মৃত মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। পক্ষান্তরে, পাইকের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়ে বলছেন যে বর্তমানে একই অপরাধে কোনো কিশোরী দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে সম্ভবত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো না। তারা পাইকের মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক শৈশবকে আদালতের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

মনোবিজ্ঞানীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিস্টা পাইক শৈশবে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং একাধিকবার যৌন নিপীড়নের মুখোমুখি হন। যারা তাঁকে রক্ষা করার কথা ছিল, তারাই তাঁকে নির্যাতন করেছিল বলে চিকিৎসকদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও টেনেসিতে এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে এখন দেখার বিষয় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোন দিকে মোড় নেয়।

জনপ্রিয়

সংবিধান সংশোধনে আবার গণভোট করবে সরকার

টেনেসিতে ২০০ বছর পর এই প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড হতে যাচ্ছে

প্রকাশিত ০৫:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় দুই শ বছর পর কোনো নারী বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক নামের ওই নারী প্রাণঘাতী ইনজেকশন নেওয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তবে তাঁর জীবন বাঁচাতে এবং দণ্ড মওকুফ করতে আইনজীবীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ১৯৯৫ সালে, যখন পাইকের বয়স ছিল মাত্র আঠারো বছর। ওই সময় তিনি তাঁর তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমার নামের এক তরুণকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। কিশোর-কিশোরীদের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যেখানে নির্যাতন চালিয়ে স্লেমারকে হত্যা করা হয়েছিল। এই অপরাধে পাইকের মৃত্যুদণ্ড হলেও তাঁর সহযোগীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই প্রক্রিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে পাইক কিছু বিশেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি চান না দণ্ড কার্যকরের সময় তাঁর পরিবারের কেউ সেখানে উপস্থিত থাকুক। এছাড়া, তাঁকে যে দলটি ইনজেকশন দেবে, তা যেন সম্পূর্ণ নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়—এমনটাই তাঁর প্রত্যাশা। কারাগার কর্তৃপক্ষ তাঁকে নারী রক্ষীদের মাধ্যমে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করলেও এর শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারেনি।

অন্যদিকে, নিহত কলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ অবিলম্বে এই রায় কার্যকরের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হলেই কেবল তাঁর মৃত মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। পক্ষান্তরে, পাইকের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়ে বলছেন যে বর্তমানে একই অপরাধে কোনো কিশোরী দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে সম্ভবত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো না। তারা পাইকের মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক শৈশবকে আদালতের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

মনোবিজ্ঞানীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিস্টা পাইক শৈশবে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং একাধিকবার যৌন নিপীড়নের মুখোমুখি হন। যারা তাঁকে রক্ষা করার কথা ছিল, তারাই তাঁকে নির্যাতন করেছিল বলে চিকিৎসকদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও টেনেসিতে এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে এখন দেখার বিষয় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোন দিকে মোড় নেয়।