ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সংবিধান সংশোধনে আবার গণভোট করবে সরকার Logo ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, একদিনে সর্বোচ্চ ২১৫৮ জন ভর্তি Logo টঙ্গীতে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মা-ছেলের মৃত্যু Logo টেনেসিতে ২০০ বছর পর এই প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড হতে যাচ্ছে Logo ৬০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন Logo ৪৪ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল কিশোরীর লুকিয়ে রাখা চিঠি Logo সাপের কামড়ে আইসিইউতে রাবি শিক্ষার্থী, প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও Logo ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি Logo পুলিশ দেখে কেক ও মোটরসাইকেল ফেলে পালালেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা Logo ধর্ষণের অভিযোগে পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র আন্দোলন, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকের পিঠে উঠে গেলেন শিক্ষার্থীরা

সাপের কামড়ে আইসিইউতে রাবি শিক্ষার্থী, প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে কালাচ সাপে কাটার ঘটনা ঘটে। এই মারাত্মক দুর্ঘটনার পর হলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে সরব হন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং এর আগে হলের বিভিন্ন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তোলেন। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা হলের চারপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও কার্যকর স্নেক নেট স্থাপনের জোর দাবি জানান।

ঘটনার শিকার হওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম নুরনবী ইসলাম, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী। ভোরের দিকে নিজের আবাসিক রুমের ভেতর ঘুমাচ্ছিলেন তিনি, ঠিক তখনই বিষাক্ত কালাচ সাপ তাঁকে দংশন করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে অ্যান্টিভেনম প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে অর্থাৎ আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাধীন সহপাঠীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলের নানা অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পোস্টার ও লিফলেট প্রদর্শন করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে সিট বাণিজ্য বন্ধ, হলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূরীকরণ এবং খাবারের মান বাড়ানোর মতো বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। হল সংসদের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, হলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও চারপাশের জঙ্গল পরিষ্কার রাখার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও প্রশাসন কোনো কর্ণপাত করেনি। অপর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতির অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের এই উদাসীনতার কারণেই একজন শিক্ষার্থীকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেন যে, হলের মতো সুরক্ষিত জায়গায় যদি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ না থাকে, তবে প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। তবে সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থান ঘোষণা করেন।

জনপ্রিয়

সংবিধান সংশোধনে আবার গণভোট করবে সরকার

সাপের কামড়ে আইসিইউতে রাবি শিক্ষার্থী, প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও

প্রকাশিত ০৫:০০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে কালাচ সাপে কাটার ঘটনা ঘটে। এই মারাত্মক দুর্ঘটনার পর হলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে সরব হন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং এর আগে হলের বিভিন্ন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তোলেন। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা হলের চারপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও কার্যকর স্নেক নেট স্থাপনের জোর দাবি জানান।

ঘটনার শিকার হওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম নুরনবী ইসলাম, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী। ভোরের দিকে নিজের আবাসিক রুমের ভেতর ঘুমাচ্ছিলেন তিনি, ঠিক তখনই বিষাক্ত কালাচ সাপ তাঁকে দংশন করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে অ্যান্টিভেনম প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে অর্থাৎ আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাধীন সহপাঠীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলের নানা অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পোস্টার ও লিফলেট প্রদর্শন করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে সিট বাণিজ্য বন্ধ, হলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূরীকরণ এবং খাবারের মান বাড়ানোর মতো বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। হল সংসদের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, হলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও চারপাশের জঙ্গল পরিষ্কার রাখার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও প্রশাসন কোনো কর্ণপাত করেনি। অপর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতির অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের এই উদাসীনতার কারণেই একজন শিক্ষার্থীকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেন যে, হলের মতো সুরক্ষিত জায়গায় যদি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ না থাকে, তবে প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। তবে সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থান ঘোষণা করেন।