ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo অবশেষে নিয়োগ পেলেন ভিটেবাড়িহীন মিশন আচার্য Logo উপাচার্যকে ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ রাখার পর আলোচনায় আন্দোলনকারী সাংবাদিকেরা Logo দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে শপিংমল-দোকানপাট Logo ‘অন্যায় দেখলে সাংবাদিক বলবে, রক্ত ঝরলেও কলম চলবে’ প্ল্যাকার্ড হাতে ইবিতে সাংবাদিকদের মৌন বিক্ষোভ Logo মাথায় স্কার্ফ পরে ছবি দেওয়ায় তুর্কি শিক্ষার্থীর ফ্রান্সের ভিসা প্রত্যাখ্যান Logo ঢাকায় ‘তেরে বিন’ তারকা ওয়াহাজ, সঙ্গে নুসরাত ফারিয়া Logo পরিবারসহ ২৭ ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করবে যুক্তরাজ্য Logo খুলনায় ছেলেকে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা Logo ছেলের হত্যার ৫১ দিনের মাথায় এবার বাবাকে গুলি করে হত্যা Logo পাবিপ্রবিতে ৬ শতাধিক নবীনকে ছাত্রদলের বরণ

খুলনায় ছেলেকে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা

খুলনার রূপসা উপজেলায় ছেলে জয় ঢালীকে নৃশংসভাবে হত্যার দেড় মাস পার না হতেই এবার তাঁর বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সম্প্রতি সন্ধ্যার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাগরিবের নামাজ শেষে প্রতিদিনের মতো মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন আক্তার ঢালী। এমন সময় হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শুনতে পান আশপাশের মানুষ এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার জাহিদ জানান যে দুর্বৃত্তদের গুলিতেই আক্তার ঢালীর মৃত্যু হয়েছে এবং ঠিক কী কারণে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় একই এলাকার শহীদের মোড়ে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। বাবা ও ছেলেকে এভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সমগ্র খুলনা জেলায় মোট ৩৩টি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে গুলিতে। পুলিশের ভাষ্যমতে, এই হত্যা মামলাগুলোর পেছনে পারিবারিক বিরোধ, মাদক ব্যবসা, চুরি-ছিনতাই, আধিপত্য বিস্তার ও আর্থিক লেনদেনের মতো বিভিন্ন কারণ জড়িত রয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে যে এর মধ্যে অধিকাংশ মামলার রহস্য ইতোমধ্যে উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি অপরাধীদের গ্রেফতারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয়

অবশেষে নিয়োগ পেলেন ভিটেবাড়িহীন মিশন আচার্য

খুলনায় ছেলেকে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশিত ১০:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার রূপসা উপজেলায় ছেলে জয় ঢালীকে নৃশংসভাবে হত্যার দেড় মাস পার না হতেই এবার তাঁর বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সম্প্রতি সন্ধ্যার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাগরিবের নামাজ শেষে প্রতিদিনের মতো মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন আক্তার ঢালী। এমন সময় হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শুনতে পান আশপাশের মানুষ এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার জাহিদ জানান যে দুর্বৃত্তদের গুলিতেই আক্তার ঢালীর মৃত্যু হয়েছে এবং ঠিক কী কারণে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় একই এলাকার শহীদের মোড়ে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। বাবা ও ছেলেকে এভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সমগ্র খুলনা জেলায় মোট ৩৩টি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে গুলিতে। পুলিশের ভাষ্যমতে, এই হত্যা মামলাগুলোর পেছনে পারিবারিক বিরোধ, মাদক ব্যবসা, চুরি-ছিনতাই, আধিপত্য বিস্তার ও আর্থিক লেনদেনের মতো বিভিন্ন কারণ জড়িত রয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে যে এর মধ্যে অধিকাংশ মামলার রহস্য ইতোমধ্যে উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি অপরাধীদের গ্রেফতারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।