ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মাথায় স্কার্ফ পরে ছবি দেওয়ায় তুর্কি শিক্ষার্থীর ফ্রান্সের ভিসা প্রত্যাখ্যান Logo ঢাকায় ‘তেরে বিন’ তারকা ওয়াহাজ, সঙ্গে নুসরাত ফারিয়া Logo পরিবারসহ ২৭ ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করবে যুক্তরাজ্য Logo খুলনায় ছেলেকে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা Logo ছেলের হত্যার ৫১ দিনের মাথায় এবার বাবাকে গুলি করে হত্যা Logo পাবিপ্রবিতে ৬ শতাধিক নবীনকে ছাত্রদলের বরণ Logo প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে ‘মুসলিম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ Logo সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় রাবি ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার Logo প্রেমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢামেকের বাথরুমে প্রেমিকার আত্মহত্যা Logo হলের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন ঢাবি শিক্ষার্থী, বাঁচলেন প্রাণে

প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে ‘মুসলিম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রথমবারের মতো স্বাধীন মুসলিম নির্মাতাদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হতে চলেছে। প্রচলিত ও গতানুগতিক ধারণার বাইরে গিয়ে মুসলিম সংস্কৃতি, আবেগ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বাস্তব ঘটনাগুলো রূপালি পর্দায় তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১১ অক্টোবর ম্যানহাটনের ঐতিহাসিক এসভিএ থিয়েটারে দিনব্যাপী এই উৎসবের পর্দা উঠবে। নিউ ইয়র্কের বুকে মুসলিম স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য এটিই প্রথম কোনো বড় মাপের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

এই উৎসবের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মূলধারার গণমাধ্যমে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর কেবল প্রতিবাদ করাই তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং মুসলিমদের নিজেদের জীবনের সত্য গল্পগুলোকে সিনেমার জগতে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। উৎসবের আর্ট ডিরেক্টর হাসান বাবর এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, তারা কেবল ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে চান না, বরং শিল্পকলার মাধ্যমে নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরতে চান। এছাড়া উৎসবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নাওয়াল মুবিন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন যে, এই শহরে মুসলিমদের নিজেদের গল্পগুলো স্বগৌরবে প্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তারা অন্যের তৈরি করা কোনো নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে আবদ্ধ থাকতে রাজি নন।

দিনব্যাপী এই জমকালো আয়োজনের শুরুতে একটি বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা উৎসবের মূল কার্যক্রমকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জমা পড়া কাজের মধ্য থেকে সাতটি দেশের মোট বারোটি বৈচিত্র্যময় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এই উৎসবে প্রদর্শনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশেষ উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নির্বাচিত এই চলচ্চিত্রগুলোর অর্ধেকেরও বেশি নির্মাণ করেছেন নারী নির্মাতারা, যা নারী শক্তির একটি বড় প্রতিফলন। ড্রামা, কমেডি, প্রামাণ্যচিত্র, অ্যানিমেশন এবং সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট—এই কয়েকটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্রগুলো দুটি পৃথক পর্বে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে।

উৎসবের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন শাখায় সেরা কাজগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ জুরি সম্মাননা ও আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হবে। এই প্রতিযোগিতামূলক অংশের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ছয় সদস্যের মর্যাদাপূর্ণ জুরি বোর্ড। এই বোর্ডে যুক্ত রয়েছেন এমিজয়ী তারকা আসিফ মান্ডভি, আরব-আমেরিকান পরিচালক দারিন হোতাইত, প্রযোজনা প্রধান মুনীর আতাউল্লাহ এবং অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্রের প্রযোজক আবুবকর খানের মতো পরিচিত মুখেরা। তাঁদের উপস্থিতি এই নতুন চলচ্চিত্র উৎসবের মান ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

জনপ্রিয়

মাথায় স্কার্ফ পরে ছবি দেওয়ায় তুর্কি শিক্ষার্থীর ফ্রান্সের ভিসা প্রত্যাখ্যান

প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে ‘মুসলিম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’

প্রকাশিত ১০:১৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রথমবারের মতো স্বাধীন মুসলিম নির্মাতাদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হতে চলেছে। প্রচলিত ও গতানুগতিক ধারণার বাইরে গিয়ে মুসলিম সংস্কৃতি, আবেগ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বাস্তব ঘটনাগুলো রূপালি পর্দায় তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১১ অক্টোবর ম্যানহাটনের ঐতিহাসিক এসভিএ থিয়েটারে দিনব্যাপী এই উৎসবের পর্দা উঠবে। নিউ ইয়র্কের বুকে মুসলিম স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য এটিই প্রথম কোনো বড় মাপের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

এই উৎসবের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মূলধারার গণমাধ্যমে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর কেবল প্রতিবাদ করাই তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং মুসলিমদের নিজেদের জীবনের সত্য গল্পগুলোকে সিনেমার জগতে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। উৎসবের আর্ট ডিরেক্টর হাসান বাবর এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, তারা কেবল ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে চান না, বরং শিল্পকলার মাধ্যমে নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরতে চান। এছাড়া উৎসবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নাওয়াল মুবিন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন যে, এই শহরে মুসলিমদের নিজেদের গল্পগুলো স্বগৌরবে প্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তারা অন্যের তৈরি করা কোনো নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে আবদ্ধ থাকতে রাজি নন।

দিনব্যাপী এই জমকালো আয়োজনের শুরুতে একটি বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা উৎসবের মূল কার্যক্রমকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জমা পড়া কাজের মধ্য থেকে সাতটি দেশের মোট বারোটি বৈচিত্র্যময় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এই উৎসবে প্রদর্শনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশেষ উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নির্বাচিত এই চলচ্চিত্রগুলোর অর্ধেকেরও বেশি নির্মাণ করেছেন নারী নির্মাতারা, যা নারী শক্তির একটি বড় প্রতিফলন। ড্রামা, কমেডি, প্রামাণ্যচিত্র, অ্যানিমেশন এবং সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট—এই কয়েকটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্রগুলো দুটি পৃথক পর্বে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে।

উৎসবের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন শাখায় সেরা কাজগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ জুরি সম্মাননা ও আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হবে। এই প্রতিযোগিতামূলক অংশের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ছয় সদস্যের মর্যাদাপূর্ণ জুরি বোর্ড। এই বোর্ডে যুক্ত রয়েছেন এমিজয়ী তারকা আসিফ মান্ডভি, আরব-আমেরিকান পরিচালক দারিন হোতাইত, প্রযোজনা প্রধান মুনীর আতাউল্লাহ এবং অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্রের প্রযোজক আবুবকর খানের মতো পরিচিত মুখেরা। তাঁদের উপস্থিতি এই নতুন চলচ্চিত্র উৎসবের মান ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।