ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর Logo নতুন করে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন? Logo এনসিপির আলোচনা সভা: সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করবে Logo মাহফিলের নামে সরকারের বিরোধিতা করলে মেনে নেওয়া হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, নীলক্ষেত অবরোধ Logo সার ডিলার নিয়োগের তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, পটিয়ায় তোলপাড় Logo মক্কা চুক্তির বিষয়টি আমরা ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করছি Logo ফ্যাসিবাদ ফিরলে দায় জামায়াতকে নিতে হবে: শামা ওবায়েদ Logo মন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার, রোববার ক্লাসে ফিরছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা

সার ডিলার নিয়োগের তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, পটিয়ায় তোলপাড়

জাতীয় ডেস্ক: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় সরকারি সার ডিলার নিয়োগের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পৌরসভার জন্য অনুমোদিত সার ডিলারের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই তালিকাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ডিলার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল খাতে তালিকা প্রণয়নকালে যথাযথ যাচাই-বাছাই না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তালিকায় গরমিলের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নে সুপারিশপ্রাপ্ত ‘মেসার্স তানভীর এগ্রো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তানভীর উদ্দীন সেজান পটিয়া উপজেলা নিষিদ্ধছাত্রলীগের সাবেক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এবং সর্বশেষ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের নেতার নাম সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ডিলার তালিকার সুপারিশে কীভাবে এল, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে এমন ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পুরো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

এদিকে প্রকাশিত তালিকায় স্থান পাওয়া পটিয়া পৌরসভার অন্যান্য ডিলারদের নামের ক্ষেত্রেও আওয়ামী রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে পৌরসভা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, রাজপথের পরীক্ষিত কর্মীদের বাদ দিয়ে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলারশিপের জন্য সুপারিশ করা অত্যন্ত হতাশার। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাটি নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে এবং তালিকাটি পুনরায় সংশোধনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মো. হাবিবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নীতিমালা অনুসরণ করেই প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কমিটির সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং এখানে এককভাবে কোনো দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক পদ-পদবির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন যে, বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিকই ডিলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকেই আসবে। তবে এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার নিয়োগ মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক ফারহানুর রহমান এবং অভিযুক্ত তানভীর উদ্দীন সেজানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয়

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর

সার ডিলার নিয়োগের তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, পটিয়ায় তোলপাড়

প্রকাশিত ০১:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় সরকারি সার ডিলার নিয়োগের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পৌরসভার জন্য অনুমোদিত সার ডিলারের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই তালিকাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ডিলার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল খাতে তালিকা প্রণয়নকালে যথাযথ যাচাই-বাছাই না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তালিকায় গরমিলের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নে সুপারিশপ্রাপ্ত ‘মেসার্স তানভীর এগ্রো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তানভীর উদ্দীন সেজান পটিয়া উপজেলা নিষিদ্ধছাত্রলীগের সাবেক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এবং সর্বশেষ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের নেতার নাম সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ডিলার তালিকার সুপারিশে কীভাবে এল, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে এমন ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পুরো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

এদিকে প্রকাশিত তালিকায় স্থান পাওয়া পটিয়া পৌরসভার অন্যান্য ডিলারদের নামের ক্ষেত্রেও আওয়ামী রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে পৌরসভা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, রাজপথের পরীক্ষিত কর্মীদের বাদ দিয়ে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলারশিপের জন্য সুপারিশ করা অত্যন্ত হতাশার। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাটি নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে এবং তালিকাটি পুনরায় সংশোধনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মো. হাবিবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নীতিমালা অনুসরণ করেই প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কমিটির সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং এখানে এককভাবে কোনো দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক পদ-পদবির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন যে, বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিকই ডিলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকেই আসবে। তবে এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার নিয়োগ মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক ফারহানুর রহমান এবং অভিযুক্ত তানভীর উদ্দীন সেজানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।