রাজনীতি ডেস্ক: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে কটূক্তি ও শ্লেষাত্মক আচরণ করেন। এই ঘটনার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে চলমান নানা অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বারোজন উপদেষ্টা। তাঁরা অবিলম্বে এসব হীন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের সংকটময় মুহূর্তে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার নানামুখী রাষ্ট্র সংস্কারের কঠিন দায়িত্ব পালন করেছিল বলে তাঁরা স্মরণ করেন।
সাবেক উপদেষ্টারা তাঁদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, সেই সময় অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক লুটপাট, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিল। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধমূলক চর্চা বন্ধ করতেও ওই প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার পথ সুগম হয়। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও রাজনৈতিক অপতৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তিরা এই অর্জনকে ম্লান করতে এখন সক্রিয় রয়েছে। তাঁরা পরিকল্পিতভাবে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সি আর আবরার এবং ড. আসিফ নজরুল। এ ছাড়া আদিলুর রহমান খান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক ই আজম এতে স্বাক্ষর করেছেন। ফরিদা আখতার, শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও এই নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশে অংশ নেন। তাঁরা মনে করেন, এসব অপতৎপরতার মূল লক্ষ্য হলো অন্তর্বর্তী সরকারের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।
নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অনলাইন হয়রানি দেশের পরিবর্তনের অঙ্গীকার থেকে কাউকে সরাতে পারবে না। তরুণ প্রজন্মের বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত সংস্কার ও মর্যাদার ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট কোনো অপপ্রচারে মুছে যাবে না। ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার সমর্থক ও দোসরদের এসব চক্রান্ত দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। এসব অনভিপ্রেত ঘটনা জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং সচেতন মহল এর সুষ্ঠু প্রতিকার দাবি করছে।




































