ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

জ্বর কমছে না কেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক: শরীরের ভেতরে কোনো সংক্রমণ বা ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে সাধারণত জ্বর দেখা দেয়। তবে ওষুধ সেবনের পরেও যদি শরীরের তাপমাত্রা না কমে কিংবা বারবার জ্বর ফিরে আসে, তবে সেটিকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে প্যারাসিটামলের নিরাপদ মাত্রা হলো একবারে ৫০০ থেকে এক হাজার মিলিগ্রাম, যা চিকিৎসকের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিরতিতে খাওয়া যেতে পারে। তবে দিনে কোনো অবস্থাতেই চার গ্রামের বেশি প্যারাসিটামল সেবন করা সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।

প্যারাসিটামল খাওয়ার পরও যদি টানা তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি জ্বর স্থায়ী হয়, তবে এর পেছনে নানা জটিল কারণ থাকতে পারে। তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথার মতো লক্ষণ ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে প্রায়ই সহজে কমতে চায় না। এছাড়া ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুর মতো তীব্র ভাইরাল সংক্রমণ, ব্যাকটেরিয়াজনিত টাইফয়েড, পরজীবীঘটিত ম্যালেরিয়া এবং মূত্রনালির সংক্রমণের কারণেও দীর্ঘদিন উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকতে পারে। অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে শরীর ব্যাকটেরিয়া-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে এবং জ্বর সহজে সারতে চায় না।

জ্বর পুরোপুরি না কমা পর্যন্ত রোগীকে ঘরে রেখে সঠিক নিয়ম মেনে পরিচর্যা ও যত্ন নিতে হবে। শরীরকে লড়াই করার সুযোগ দিতে রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে এবং কুসুম গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে বারবার শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। পানিশূন্যতা রোধ করতে প্রচুর পরিমাণে পানি, ডাবের পানি, ফলের রস ও পাতলা স্যুপ খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া রোগীর শরীরে হালকা সুতি পোশাক পরিয়ে রাখতে হবে এবং অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করে সহজে হজম হয় এমন নরম খাবার খাওয়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর মতো রোগের ক্ষেত্রে নিজে থেকে আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিনের মতো অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জ্বর যদি টানা তিন দিন ধরে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে থাকে কিংবা রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা, বমি এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করালে যেকোনো বড় ধরনের বিপদ থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

জনপ্রিয়

সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ১৯ অক্টোবর বন্ধ থাকবে

জ্বর কমছে না কেন

প্রকাশিত ১১:৫২:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: শরীরের ভেতরে কোনো সংক্রমণ বা ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে সাধারণত জ্বর দেখা দেয়। তবে ওষুধ সেবনের পরেও যদি শরীরের তাপমাত্রা না কমে কিংবা বারবার জ্বর ফিরে আসে, তবে সেটিকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে প্যারাসিটামলের নিরাপদ মাত্রা হলো একবারে ৫০০ থেকে এক হাজার মিলিগ্রাম, যা চিকিৎসকের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিরতিতে খাওয়া যেতে পারে। তবে দিনে কোনো অবস্থাতেই চার গ্রামের বেশি প্যারাসিটামল সেবন করা সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।

প্যারাসিটামল খাওয়ার পরও যদি টানা তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি জ্বর স্থায়ী হয়, তবে এর পেছনে নানা জটিল কারণ থাকতে পারে। তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথার মতো লক্ষণ ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে প্রায়ই সহজে কমতে চায় না। এছাড়া ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুর মতো তীব্র ভাইরাল সংক্রমণ, ব্যাকটেরিয়াজনিত টাইফয়েড, পরজীবীঘটিত ম্যালেরিয়া এবং মূত্রনালির সংক্রমণের কারণেও দীর্ঘদিন উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকতে পারে। অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে শরীর ব্যাকটেরিয়া-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে এবং জ্বর সহজে সারতে চায় না।

জ্বর পুরোপুরি না কমা পর্যন্ত রোগীকে ঘরে রেখে সঠিক নিয়ম মেনে পরিচর্যা ও যত্ন নিতে হবে। শরীরকে লড়াই করার সুযোগ দিতে রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে এবং কুসুম গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে বারবার শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। পানিশূন্যতা রোধ করতে প্রচুর পরিমাণে পানি, ডাবের পানি, ফলের রস ও পাতলা স্যুপ খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া রোগীর শরীরে হালকা সুতি পোশাক পরিয়ে রাখতে হবে এবং অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করে সহজে হজম হয় এমন নরম খাবার খাওয়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর মতো রোগের ক্ষেত্রে নিজে থেকে আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিনের মতো অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জ্বর যদি টানা তিন দিন ধরে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে থাকে কিংবা রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা, বমি এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করালে যেকোনো বড় ধরনের বিপদ থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব।