ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

প্রকাশ্যে এল ১১৪ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের পত্রালাপ

ডেস্ক রিপোর্ট: নোবেলজয়ী দুই মনীষী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বার্ট্রান্ড রাসেলের মধ্যে আবর্তিত ১১৪ বছর আগের একটি ঐতিহাসিক চিঠি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। নোবেল ফাউন্ডেশন তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিরল চিঠিটি প্রকাশ করে, যা মূলত কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির বার্ট্রান্ড রাসেল আর্কাইভে সংরক্ষিত রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের এই দুই জ্ঞানতাপসের বৌদ্ধিক যোগাযোগের এক অনন্য দলিল হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।

১৯১২ সালে রবীন্দ্রনাথের ইংল্যান্ড সফরকালে এই দুই বিশ্বখ্যাত চিন্তাবিদের সরাসরি পরিচয় ঘটে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার সেতুবন্ধন তৈরি হয়। সে বছর প্রকাশিত রাসেলের একটি প্রবন্ধ পড়ার পর রবীন্দ্রনাথ তাকে ওই চিঠিটি লিখেছিলেন, যেখানে উপনিষদের বাণীর সঙ্গে পাশ্চাত্য দর্শনের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন কবিগুরু। চিঠিতে ডক্টর ব্রজেন্দ্রনাথ শীলের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, যিনি সে সময় কেমব্রিজ সফরে ছিলেন।

চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ ব্রিটিশ দার্শনিক রাসেলকে লেখা বার্তায় মানবাত্মার মুক্তি এবং ক্ষুদ্র অহংবোধের সীমা পেরিয়ে অনন্তের স্পর্শ লাভ করার বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। রাসেলের প্রবন্ধে ফুটিয়ে ওঠা চিন্তার সঙ্গে উপনিষদের শ্লোকের মিল খুঁজে পেয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন কীভাবে মানুষ পরম আনন্দের উপলব্ধি লাভ করে। প্রথাগত ধর্মীয় আচার বা অন্ধবিশ্বাসের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানুষের ভেতরের অনন্ত সত্তার জাগরণই ছিল তাদের মূল আলোচনার বিষয়।

১৯১২ সালের ওই চিঠির ঠিক এক বছর পর ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ এবং তার ৩৭ বছর পর ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যের সর্বোচ্চ স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। দুটি ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক পথ থেকেও এই দুই মনীষী একই সর্বজনীন সত্যের সন্ধান পেয়েছিলেন। এই শতবর্ষী চিঠিটি তাই প্রাচ্যের বৈদিক প্রজ্ঞা এবং আধুনিক পাশ্চাত্য দর্শনের এক অপূর্ব সম্মিলন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

জনপ্রিয়

ইমরান খানের ঘাঁটি অবরুদ্ধ করেছে পাকিস্তান, উল্টো হতে পারে ফল

প্রকাশ্যে এল ১১৪ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের পত্রালাপ

প্রকাশিত ০১:২২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: নোবেলজয়ী দুই মনীষী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বার্ট্রান্ড রাসেলের মধ্যে আবর্তিত ১১৪ বছর আগের একটি ঐতিহাসিক চিঠি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। নোবেল ফাউন্ডেশন তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিরল চিঠিটি প্রকাশ করে, যা মূলত কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির বার্ট্রান্ড রাসেল আর্কাইভে সংরক্ষিত রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের এই দুই জ্ঞানতাপসের বৌদ্ধিক যোগাযোগের এক অনন্য দলিল হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।

১৯১২ সালে রবীন্দ্রনাথের ইংল্যান্ড সফরকালে এই দুই বিশ্বখ্যাত চিন্তাবিদের সরাসরি পরিচয় ঘটে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার সেতুবন্ধন তৈরি হয়। সে বছর প্রকাশিত রাসেলের একটি প্রবন্ধ পড়ার পর রবীন্দ্রনাথ তাকে ওই চিঠিটি লিখেছিলেন, যেখানে উপনিষদের বাণীর সঙ্গে পাশ্চাত্য দর্শনের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন কবিগুরু। চিঠিতে ডক্টর ব্রজেন্দ্রনাথ শীলের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, যিনি সে সময় কেমব্রিজ সফরে ছিলেন।

চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ ব্রিটিশ দার্শনিক রাসেলকে লেখা বার্তায় মানবাত্মার মুক্তি এবং ক্ষুদ্র অহংবোধের সীমা পেরিয়ে অনন্তের স্পর্শ লাভ করার বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। রাসেলের প্রবন্ধে ফুটিয়ে ওঠা চিন্তার সঙ্গে উপনিষদের শ্লোকের মিল খুঁজে পেয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন কীভাবে মানুষ পরম আনন্দের উপলব্ধি লাভ করে। প্রথাগত ধর্মীয় আচার বা অন্ধবিশ্বাসের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানুষের ভেতরের অনন্ত সত্তার জাগরণই ছিল তাদের মূল আলোচনার বিষয়।

১৯১২ সালের ওই চিঠির ঠিক এক বছর পর ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ এবং তার ৩৭ বছর পর ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যের সর্বোচ্চ স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। দুটি ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক পথ থেকেও এই দুই মনীষী একই সর্বজনীন সত্যের সন্ধান পেয়েছিলেন। এই শতবর্ষী চিঠিটি তাই প্রাচ্যের বৈদিক প্রজ্ঞা এবং আধুনিক পাশ্চাত্য দর্শনের এক অপূর্ব সম্মিলন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।