ডেস্ক রিপোর্ট: ওয়েলসের ফ্রেনি ফাওয়ার পাহাড়ের কাছে রোমান সম্রাট ম্যাগনাস ম্যাক্সিমাসের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে কেবল লোককাহিনী হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে সম্প্রতি ওয়েলসের পেমব্রোকশায়ারে চতুর্থ শতকের একটি রোমান দুর্গ আবিষ্কারের ফলে সেই মধ্যযুগীয় উপাখ্যান বাস্তবে রূপ নেওয়ার শক্ত ইঙ্গিত মিলেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রোমান ইতিহাস বিশেষজ্ঞ ড. মার্ক মেরোনি এই প্রাচীন দুর্গটি আবিষ্কার করেছেন। ঐতিহ্যবাহী ম্যাবিনোগিয়ন মহাকাব্যে উল্লেখিত ভৌগোলিক এলাকার কাছে আবিষ্কৃত এটিই একমাত্র রোমান সামরিক ঘাঁটি।
মধ্যযুগীয় লোকগাথা ম্যাবিনোগিয়নে বর্ণিত হয়েছে যে সামরিক অভিযানের সময় সম্রাট প্রিসেলি পাহাড়ের পূর্বাঞ্চলীয় চূড়ার কাছে নিজের ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন। দীর্ঘকাল ধরে এর কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ না মিললেও সম্প্রতি ড. মেরোনি চূড়াটির দক্ষিণ-পশ্চিমে দুর্গের সন্ধান পান। স্যাটেলাইট চিত্রে জ্যামিতিক নকশা দেখে সেখানে পৌঁছে রোমান টাইলসসহ বিভিন্ন প্রত্নবস্তু উদ্ধার করা হয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা ও গণ-অর্থায়নে পরিচালিত খননকাজের প্রথম পর্যায় সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
উদ্ধারকৃত নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে চতুর্থ শতকের কয়েকটি ধাতব মুদ্রা, লোহার স্টাইলাস, মাটির পাত্রের টুকরা ও শক্ত মাটির মেঝে। ১৮০ মিটার দীর্ঘ ও ১৫০ মিটার বিস্তৃত এই দুর্গে অন্তত ৫০০ সেনা অবস্থান করত বলে জানা গেছে। দুর্গের গঠন এবং সেখানে সামরিক সদর দপ্তর ও সেনাপতির বাসভবনের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে এটি একটি সুদৃঢ় সামরিক ঘাঁটি ছিল। এই আবিষ্কারের ফলে স্থানীয় সেল্টিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রোমানদের শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের পুরনো ধারণাও ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
গবেষকরা মনে করছেন, এই রোমান দুর্গের উপস্থিতি প্রায় এক হাজার সাতশ বছর ধরে টিকে থাকা ম্যাবিনোগিয়ন কাহিনীর রহস্যের জট খুলতে বড় ভূমিকা রাখবে। দুর্গের অবস্থান এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো প্রাচীন রোমানদের উপস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য সরবরাহ করছে। এই গবেষণার বিস্তারিত তথ্য খুব শীঘ্রই ‘অ্যান্টিকুয়াস’ নামক প্রত্নতত্ত্ব সাময়িকীতে প্রকাশিত হবে। এছাড়া ড. মার্ক মেরোনির আসন্ন বইয়েও সম্রাট ম্যাগনাস ম্যাক্সিমাস ও তার এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারটি স্থান পাবে।





































